নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: লাইনের নীচ দিয়ে পরিস্রুত জলের পাইপ লাইন নিয়ে যেতে অবশেষে সিউড়ি পুরসভাকে অনুমতি দিল রেল। বুধবার পুরসভায় এনিয়ে রেলের চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় একপ্রস্থ বৈঠক সারেন। পুরসভার দাবি, পুজোর পরই অম্রুত ২.০ প্রকল্পের আওতায় ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে পানীয় জলের পাইপ লাইন পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হবে। দ্রুত সেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রাও স্থির করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বলেন, নির্দিষ্ট ওই ওয়ার্ডে পরিস্রুত পানীয় জলের পাইপ লাইন পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রেলের অনুমতি চেয়ে একাধিকবার আবেদন জানানো হয়েছিল। অবশেষে এদিন রেল কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে। আগামীতে লিখিত আকারে রেল অনুমোদন দেবে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে শহরের প্রতিটি বাড়িতে পরিস্রুত পানীয় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।
সিউড়ি পুরসভায় মোট ২১টি ওয়ার্ড রয়েছে। কমবেশি প্রায় ৩১ হাজার বাড়ি। একাধিক বহুতল আবাসনও রয়েছে। প্রতিটি বাড়ি ও আবাসনে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দিতে শহরের মূল অংশ বাদে অন্যান্য এলাকায় পাইপ লাইন বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, পুজোর পরেই শহরের প্রধান এলাকাগুলিতেও পাইপ লাইন বসানো শুরু হবে। তবে, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ঘেঁষে রেললাইন যাওয়ায় পাইপলাইন পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে শুরুতেই সমস্যা সৃষ্টি হয়। বাধা কাটিয়ে পুরসভা আন্ডার গ্রাউন্ড পাইপলাইন বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজন ছিল রেলের অনুমতি। সেক্ষেত্রে প্রায় এক বছর আগেই পুরসভা কর্তৃপক্ষ রেলের দ্বারস্থ হয়। পুরসভার আবেদনে সাড়া দিয়ে রেলের তরফে একাধিক সার্ভেও করা হয়েছিল। যদিও এতদিন অনুমতি মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে একসময় স্থানীয় কাউন্সিলার রেল মন্ত্রকে চিঠি দিয়েছিলেন। অবশেষে অনুমতি মিলল। এদিন রেলের আধিকারিকরা প্রথমেই এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে চেয়ারম্যানের সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠকও সারেন। সেই বৈঠকেই এদিনের রেলের আধিকারিকরা সবুজ সংকেত দিয়েছে বলে পুর কর্তৃপক্ষের দাবি।
পুরসভার তরফে জানা গিয়েছে, শহরের প্রতিটি বাড়িতে পরিস্রুত পানীয় জল পরিষেবা দিতে আনুমানিক ৮৭ কোটি টাকা খরচে জল প্রকল্পের কাজ চলছে। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে সেই কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে একাধিক ওভারহেড ট্যাঙ্ক নির্মাণের কাজে গতি এসেছে। সেইসঙ্গে পাইপ লাইন বসানোর কাজও চলছে। পুজো মিটতেই কাজের গতি আরও বাড়ানো হবে। প্রতীকী চিত্র