Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

অমৃতকথা

১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে শশী মহারাজ রাজা মহারাজকে মাদ্রাজ মঠে লইয়া যান, সেখান হইতে তাঁহারা রামেশ্বর তীর্থে যান। সেই সময়ে রাজা মহারাজের পুণ্য সান্নিধ্যের স্মৃতি স্মরণ করিয়া স্বামী বিশুদ্ধানন্দ বলিয়াছেন, ‘‘শ্রীশ্রী মহারাজ ‘রামেশ্বর-দর্শনে চলেছেন।

অমৃতকথা
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে শশী মহারাজ রাজা মহারাজকে মাদ্রাজ মঠে লইয়া যান, সেখান হইতে তাঁহারা রামেশ্বর তীর্থে যান। সেই সময়ে রাজা মহারাজের পুণ্য সান্নিধ্যের স্মৃতি স্মরণ করিয়া স্বামী বিশুদ্ধানন্দ বলিয়াছেন, ‘‘শ্রীশ্রী মহারাজ ‘রামেশ্বর-দর্শনে চলেছেন। সঙ্গে শশী মহারাজ আর আমরা তিনজন স্বামী ধীরানন্দ, নীরদ মহারাজ ও আমি। রামেশ্বরে তিনি রামনাদের রাজার অতিথি, রাজাসাহেব তাঁর জন্য এক প্রাসাদ ছেড়ে দিয়েছেন, তিনি সেখানে পৌঁছেই শশী মহারাজকে নিয়ে ধুলো পায়ে দেবদর্শনে চলে গেলেন।... পরদিন সকাল থেকে মহারাজকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।... শশী মহারাজ তখন অনুমানে বললেন, ‘মহারাজ বোধহয় মন্দিরে চলে গেছেন।’ আমরা তাড়াতাড়ি মন্দিরে যেয়ে দেখলুম শশী মহারাজের অনুমান যথার্থ। মন্দিরে পৌঁছে যা দেখলুম তা কেমন করে বোঝাই বলো! তার একটু আভাস শুধু দিতে পারি। দেখলুম তিনি শিব সন্নিধানে ধ্যানমগ্ন বাহ্যশূন্য, নিস্পন্দ। শশী মহারাজ আমাদের ইশারা করলেন তাঁকে ঘিরে বসে পড়তে— যাতে ভিড়ের চাপে তাঁর শরীরে আঘাত না লাগে। তিনি নিজে একটা দিক আগলে বসলেন। আশ্চর্য, বসার অল্পক্ষণের মধ্যে আমরাও গভীর ধ্যানে ডুবে গেলুম। দেখ ব্যাপার! উচ্চ আধ্যাত্মিক শক্তি সম্পন্ন মহাপুরুষের সান্নিধ্যে যে আসবে প্রভাবিত হয়ে পড়বে—হৃদয়ে আধ্যাত্মিক ভাবের স্ফুরণ আপনি হবে।’’ 
‘‘স্বামী ব্রহ্মানন্দ সম্পর্কে স্বামী প্রেমানন্দ স্বামী অপূর্বানন্দকে বলিয়াছিলেন, ‘মহারাজকে দেখেছ? যাও তাঁর দর্শন করে এসো। মহারাজ, শ্রীরামকৃষ্ণের মানসসন্তান ও তাঁর জীবন্ত রূপপরিগ্রহ। মহারাজের কৃপা ও আশীর্বাদ লাভ করলে জানবে সেটা সরাসরি ঠাকুরের কাছ থেকে আসছে। এ বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রেখো।’... স্বামী শিবানন্দ বলিয়াছেন, ‘মহারাজ, হলেন ঠাকুরের সাক্ষাৎ মানসপুত্র। তাঁর আশীর্বাদ পেলে মনে করবে যে, ঠাকুরেরই আশীর্বাদ পেয়েছ। ঠাকুরের আধ্যাত্মিক শক্তি এখন তাঁর ভেতর দিয়ে জগৎ পাচ্ছে।’ ... স্বামী সারদানন্দ বলিতেন, ‘আমাদের মধ্যে একমাত্র মহারাজের ভিতরেই ঠাকুরের পরমহংস অবস্থার হাবভাব, চালচলন দেখতে পাওয়া যায়।’’
স্বামী ব্রহ্মানন্দের কোঠারবাসের পরবর্তী পর্যায়ে পাঠকবগ প্রত্যক্ষ করিবেন যে, ‘‘স্বামী ব্রহ্মানন্দের মধ্যে দুইটি সত্তা ওতপ্রোতভাবে জড়াইয়া তাঁহার ব্যক্তিত্বকে অপরূপ মাধুর্য দান করিয়াছে- একটি শ্রীরামকৃষ্ণ-সত্তা ও অপরটি তাঁহার ভক্ত-সত্তা এই দুইটি অঙ্গাঙ্গিভাবে বিদ্যমান। স্বামী ব্রহ্মানন্দের গুরুভাবের মধ্যে রামকৃষ্ণ-সত্তাটির প্রাধান্য, কিন্তু ব্যবহারিক ক্ষেত্রে তাঁহার ভক্ত-সত্তাটি আনন্দোচ্ছল শিশুর মতো বিচিত্র ক্রিয়াকলাপে অভিনিবিষ্ট।”

Advertisement

স্বামী শিবপ্রদানন্দ সম্পাদিত ‘শ্রীমা সারদা ও তপোভূমি কোঠার’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ