Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

অমৃতকথা

স্বামীজির বিচারধারায় আলোকিত ও অনুপ্রাণিত ছেলেমেয়ে প্রয়োজন। ‘প্রভুর নাম’ মনে মনে সর্বক্ষণ সমস্ত কাজের মধ্যে নিতে থাকো।

অমৃতকথা
  • ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বামীজির বিচারধারায় আলোকিত ও অনুপ্রাণিত ছেলেমেয়ে প্রয়োজন।
‘প্রভুর নাম’ মনে মনে সর্বক্ষণ সমস্ত কাজের মধ্যে নিতে থাকো। মনে অন্য কোন কথাকে বা চিন্তাকে স্থান দিও না। এইরূপে নিজের শুদ্ধ মনের সঙ্গে পরিচিত হও। তোমার মনই শুদ্ধ চৈতন্য, যে শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীমায়ের স্বরূপ। সেই শুদ্ধ চৈতন্য স্বরূপকে তুমি বলছো বুদ্ধিহীন, ঘাটতিপূর্ণ ইত্যাদি।
তুমি জীবন ত্যাগ করবার কথা লিখেছো কিন্তু এটা এত সহজ নয়, তোমার কর্ম তোমাকে বারবার সেই পরিস্থিতিতে নিয়ে আসবে, যে পরিস্থিতি তুমি বর্তমানে ভোগ করছো, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তোমার পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার জন্য তৈরী, ততক্ষণ তোমাকে বারবার জন্ম নিতেই হবে। তুমি ভাবতে পারো যে আত্মহত্যা করলে তুমি ছুটি পাবে, কিন্তু আত্মহত্যার পরে তুমি যে জীবন লাভ করবে, সেই জীবনের কষ্টের সঙ্গে এই কষ্টও জুড়ে যাবে। সুতরাং আত্মহত্যা কখনও, কারোর জন্য জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধান নয়।
জীবনের সমস্যাগুলো তো দুঃস্বপ্নের মত, এর থেকে তো সেদিনই মুক্তি পাওয়া যাবে যেদিন কারো সংসারের অসারতা সম্পর্কে দৃঢ় পাক্কা জ্ঞান লাভ হবে এবং তার মন সংসার থেকে কিছুই কামনা করবে না।
স্বামী ব্রহ্মানন্দজী মহারাজের জীবনী পড়লে জানতে পারবে যে, তিনি কোনো এক সময় শ্রীশ্রীঠাকুরকে স্বয়ং বলছেন, কিছুই ভালো লাগে না। এমন কি আপনাকেও ভালো লাগছে না, ইত্যাদি। অধ্যাত্ম জীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্বামী ব্রহ্মানন্দজী মহারাজ জোয়ার-ভাঁটার কথা বলেছেন। ওনার বইটির নাম ‘ধর্মপ্রসঙ্গে স্বামী ব্রহ্মানন্দ’ , যদি পড়ে না থাকো তবে পড়ে নিও।
তুমি অল্পশিক্ষিত মনে করে নিজেকে হেয় কেন ভাবছ? তুমি জানো না স্বয়ং শ্রীশ্রীঠাকুর নিজেকে মূর্খোত্তম বলতেন? শিক্ষিত, অল্প শিক্ষিত এইসব নিয়ে কেন মাথা ঘামাচ্ছো। প্রভুর নাম নিতে নিতে জীবন অতিবাহিত করার সংকল্প করো, ধীরে ধীরে তোমার হৃদয়ে প্রভুর জন্য প্রেম জাগবে আর তখনই তুমি বুঝতে পারবে কেন যে প্রভু নিজেকে মূর্খোত্তম বলতেন।
তোমার হৃদয়ে আসীন শ্রীশ্রীঠাকুরই তোমায় তোমার আধ্যাত্মিক জীবন সম্পর্কে দিশা-নির্দেশ করে দেবেন।
আমি আমাদের প্রভু শ্রীরামকৃষ্ণ এবং শ্রীশ্রীমাকে তোমার সাংসারিক ইচ্ছে পূরণের জন্য এবং ওনার প্রতি তোমার ভক্তি ক্রমাগত বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন প্রতিক্ষণ প্রার্থনা করি। তুমি নিশ্চিন্ত হয়ে যা ইচ্ছে হয় করো। শ্রীশ্রীঠাকুর তোমাকে ওনার নাম জপ করার অধিকার দিয়েছেন, সারদা মঠে যোগ দেওয়ার জন্য যোগ্য করে তুলেছেন, বলো তো সত্যি কিনা, এটার জন্য তোমার দিক থেকে তোমায় কি কিছু করতে হয়েছে? 
এইভাবে নিশ্চিন্ত থেকে তোমার জীবনে শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীমায়ের লীলা দেখতে থাকো যেমন একটি শিশুকে তার মা লালন-পালন করে, সময়ে সময়ে খাওয়ায়, স্নান করায়, ঘুম পাড়ায় এবং শিশুটি নিশ্চিন্ত মনে শুধু তার মায়ের মুখপানে চেয়ে থাকে এবং মৃদু মৃদু হাসে। ওনার উপর জীবনের সব কিছু ছেড়ে দাও।

Advertisement

‘মধু সঞ্চয়ন’ (স্বামী গহনানন্দ উক্তি সংগ্রহ) থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ