Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

অমৃতকথা

মা মা, ডাকছিস্‌? বড় মধুর তোর আহ্বান, তোর পরশ। এ পাগল করা পরশে আমি আর থাকি না, আমি আর একজন হয়ে যাই। ছাড়িস্‌ না মা।

অমৃতকথা
  • ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মা মা, ডাকছিস্‌? বড় মধুর তোর আহ্বান, তোর পরশ। এ পাগল করা পরশে আমি আর থাকি না, আমি আর একজন হয়ে যাই। ছাড়িস্‌ না মা। ছুঁয়ে থাক, আমি পাগল হয়ে তোর পরশে এ স্থূলটার স্মৃতি মুছে যাক্‌।

Advertisement

দেখ মা “যার ছেলে যত পায়, তার ছেলে তত চায়” সত্য না চেয়ে থাকতে পারে না। বল মা! বল মা! যে তোর স্পর্শ পেয়েছে, আর কিছু সে চাইতে পারে? না আর কিছু তাকে আনন্দ দিতে পারে? সে না চাইলেও তুই কিন্তু জোর করে দিস্‌। তুই ভিন্ন অন্য কিছু তো তীব্র বিষ, তা স্পর্শ করতে না করতে সর্ব্ব শরীর জ্বলে যায়—তখন মা-মা করে চেঁচিয়ে ডাক্‌তে হয়। তুই ছাড়া জ্বালা নিবারণ কর্‌তে আর তো কেহ পারে না। মা মা! আমায় তোর পরশ-সাগরে ডুবিয়ে দে মা। বেশ মা! সব তাতেই তোর রঙ্গ! তুই যে মঙ্গলময়ী তুই যা করিস্‌ সবই এটার মঙ্গল, এটা তা ভুলে গিয়ে এটা কর্‌, ওটা কর্‌ বলে। মা তুই যে চির কল্যাণময়ী, তুই যা করছিস্‌ সব মঙ্গল তা এটাকে কেন ভুলিয়ে দিস্‌—না আর আমার বলবার কিছু নেই, তোর যা ইচ্ছা কর্‌।
তোর যা ইচ্ছা হয় তাই তুই কর্‌, তোকে আর আমি কিছু বল্‌ব না। মঙ্গলময়ী আমার মা, সদানন্দময়ী আমার মা, আমি মার ছেলে, আমি মার আনন্দের দুলাল, আমার উৎপত্তি স্থিতি নাশ সবই আনন্দে; আমি আনন্দে খেলি, আনন্দে বেড়াই, আনন্দে ঘুমাই। মা আমার সদানন্দময়ী, আমার মার রূপে জগৎ আলো হয়ে আছে। গাছে গাছে পাখী আমার মার স্তব করে, ফুলে ফুলে ভ্রমর গুন্‌গুন্‌ রবে মার গুণের কথা গুঞ্জন করে, ওই ভাগীরথী আপন মনে আমার মাকে ধ্যান কর্‌তে কর্‌তে সাগরে গিয়ে মিশে যায়, বাতাস আমার মাকে ব্যঞ্জন করে, আকাশ আমার মার মাথার ছত্র ধারণ করে আছে, ভূমিতল আমার মায়ের পাদপীঠ। আমার সদানন্দময়ী মা, আমার মঙ্গলময়ী মা, আমার বিশ্বরূপিণী মা, আমার জগন্ময়ী মা, আমার মা সাকারে সগুণা, নির্গুণা, নিরাকারে মা, আমার মা, আমি মার ছেলে, আমার মা বিশ্বব্যাপিনী, আমার মা বিশ্বরূপিণী মা, আমার মা। মা দেখ, তোর সঙ্গে কথা কইতে ইচ্ছা করে, তা তুই কথা কবি না মা? তুই তো কথা ক’স্‌। ভক্ত যে তোর দেখা পায়, কথা শুন্‌তে পায়। আমি ভক্ত না হলেও তোর ছেলে তো, তুই কথা ক’না মা। এ একটা কি বাঞ্ছিত অতৃপ্তি! তুই দেখা দিলিনে, তুই কথা কইলিনে—এটা একটি অতৃপ্তি বটে। তবে বড় মধুর, মন তোর কথা শুনতে চায়, তোকে চাক্ষুষ দেখ্‌তে চায়, পায় না—তাই সে অতৃপ্ত, এ অতৃপ্তি ভাল নয় কি মা? বিষয়ের জন্য অতৃপ্তি হলে সেটা নিন্দার বটে, কিন্তু এ যে তোর জন্য অতৃপ্তি মা। মা মা, কবে দেখা দিবি মা? কবে তুই আমার হবি চিরদিনের জন্য, ছাড়াছাড়ি হবে না, ক্ষণমাত্র হারাবো না। তুই দেখ মা আবার চেয়ে ফেল্‌লাম্‌। সত্যি, মানুষ না চেয়ে থাক্‌তে পারে না, যতক্ষণ না সে পাওয়ার মত পায়। সকল ইন্দ্রিয় দিয়ে, সমস্ত দেহ দিয়ে, মন ও বুদ্ধি দিয়ে না পেলে সুস্থির হতে পারে না, দে মা, আমায় পূর্ণ করে দে, আমি সেই মহামন্ত্রের দ্রষ্টা হয়ে চিরনিবৃত্ত হয়ে যাই।
শ্রীগুরুপ্রকাশন প্রকাশিত ‘শ্রীওঙ্কারনাথ-রচনাবলী’ (১৪ খণ্ড) থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ