Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

অমৃতকথা

ঠাকুর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস প্রায়ই বলতেন যে, ভক্তিই ভাল এবং সহজ পথ। শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনায় ভক্তিকেই ভিত্তিভূমি করতে দেখা গেছে।

অমৃতকথা
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঠাকুর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস প্রায়ই বলতেন যে, ভক্তিই ভাল এবং সহজ পথ। শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনায় ভক্তিকেই ভিত্তিভূমি করতে দেখা গেছে। তাঁর মতে ভক্তির সাহায্যেই সব সহজে পাওয়া যায়। বস্তুতঃ বলা যায় যে, ভক্তিতেই হয় মুক্তি। শ্রীঠাকুরের সার্থক সহধর্মিণী সারদাদেবীও সেজন্য ভক্তিকে দিতেন গভীর গুরুত্ব।

Advertisement

মায়ের মতে মন্ত্র-তন্ত্র কিছুই কিছু না, কেবল ভক্তিই সব। শ্রীমা বলতেন: “ভগবানকে প্রেমভক্তি ছাড়া পাওয়া যায় না।” শ্রীশ্রীমা সারদা একদিন কাশীতে কথা প্রসঙ্গে প্রেমভক্তির বিষয়ে বলেছিলেন: “ঠাকুরকে ডাকতে ডাকতে কৃপা হলে তবে প্রেমভক্তি হয়। এই প্রেমটা অতি গোপনীয় জিনিস। ব্রজগোপীদের প্রেমভক্তি হয়েছিল। তারা এক কৃষ্ণকে ছাড়া আর কিছুই জানত না।” ঐ কথা বলতে বলতে মা মধুর কণ্ঠে গেয়ে উঠলেন:“ও প্রেম রত্নধন রাখতে হয় অতি যতনে।”

এবং এমন মিষ্টি করে গাইলেন যে, মায়ের মিষ্টি মুখে মিষ্টি গান শুনে শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধের মতো মায়ের মুখের দিকে চেয়ে বসে রইলেন। সেই সব ভক্তদের জীবন ধন্য হয়ে গেল। সেই সুর সারা জীবনই যেন তাঁদের কানে ধ্বনিত হতে থাকে। এই প্রসঙ্গে মায়ের মুখে গান শোনার আর একটি ঘটনা বলা যাক্‌। একদিন সারদা মা গিরিশ ঘোষের জয়রামবাটী যাবার ব্যাপারটি বলছিলেন। গ্রামের মানুষরা তো অজ্ঞ। তাই তারা যে শুনেছে যে, গিরিশবাবু থিয়েটার করেন, অমনি মনে করেছে যে, তিনি খুব ভাল গান গাইতে পারে। অতএব আর যায় কোথায়! তাঁকে গান গাইবার জন্য জ্বালাতন করতে থাকে। গিরিশবাবু যতই বলেন যে, তিনি গাইতে পারেন না, তারা ততই জেদ করতে থাকে। অবশেষে হার মেনে গিরিশবাবুকে গান গাইতেই হলো। তিনি দু’টো গানই করেছিলেন।

এখন এই গল্প মায়ের মুখে শুনে শ্রীশ্রীমায়ের মুখে গান শোনার প্রবল ইচ্ছা হয় আশুতোষ মিত্র মহাশয়ের। তাই তিনি মায়ের কাছে আবদার করেন ঐ দু’টো গানের মধ্যে যে কোন একটা গাইবার জন্য। প্রথমে মা একটু ইতঃস্ততঃ করেন। অগত্যা অনেক অনুরোধ করায় ঘরের বাইরে কেউ নেই খবর নিয়ে একটি গানের মাত্র দু’টো লাইন গাইলেন:

“হামা দে পালায় পাছু ফিরে চায় রাণী পাছে তোলে কোলে,

রাণী কুতূহলে ধর ধর বলে, হামা টেনে তত গোপাল চলে।”

গান শুনে আশুবাবু অনুভব করলেন যে, মায়ের মিষ্টি গলা বটে, তবে তাতে একটু গ্রাম্য টান আছে। মা মানুষের মনে ভক্তিভাব জাগাবার জন্য ভক্তিভাবের প্রচুর প্রশংসা করতেন। নিজের বাবা-মায়ের ভক্তি সম্বন্ধে সারদা মা যা বলেছেন, বলা যাক্‌ প্রথমেই সেকথা স্বয়ং সারদাদেবীর ভাষায়: “বাবা (রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়) বড় রামভক্ত ছিলেন।…আমার মা (শ্যামাসুন্দরীদেবী) ছিলেন যেন লক্ষ্মী, সমস্ত বছর সব জিনিসটি পত্রটি গুছিয়ে-টুছিয়ে, ঠিকঠাক করে রাখতেন। বলতেন, ‘আমার ভক্ত-ভগবানের সংসার”।

পরিমল চক্রবর্তী ও অপর্ণা চক্রবর্তীর ‘শ্রীশ্রীমা সারদা কথামৃত’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ