সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ১০২-এ কল করেও অ্যাম্বুলেন্সের জন্য এক প্রসূতিকে অপেক্ষা করতে হল সাড়ে তিন ঘণ্টা। তার উপর তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ দীর্ঘক্ষণ ছিল চিকিৎসকহীন। রবিবার ওই হাসপাতালে গিয়ে এমনই অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন অনামিকা গরাং নামের এক প্রসূতি।
অনামিকাদেবীর বাড়ি তারকেশ্বর থানার মহেশপুর এলাকায়। প্রসব যন্ত্রণা ওঠায় ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় তাঁকে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিজনরা। সেখান থেকে তাঁকে শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এ নিয়েও চলে দীর্ঘ টালবাহানা। ১০২-এ ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স চাওয়া হয়েছিল। সেই অ্যাম্বুলেন্স আসে সাড়ে তিন ঘণ্টা বাদে। রোগীর এক পরিজনের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্সকে বারে বারে ফোন করলেও প্রতিবারই জবাব আসে, ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাবে। তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালের এক কোনায় দু’টি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকলেও তাতে চালক ছিল না।
এদিকে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ প্রায় এক ঘণ্টা ছিল চিকিৎসকহীন। রোগীর ওই আত্মীয় বলেন, হাসপাতাল থেকে আমাদের বলা হল, জরুরি বিভাগে যে ডাক্তার ছিলেন, তাঁর ডিউটি শেষ হয়ে গিয়েছে। তাঁর পরিবর্তে যাঁর ডিউটি করার কথা, তিনি এখনও আসেননি। আরেকজন ডাক্তার রয়েছেন, তিনি রাউন্ড দিচ্ছেন। এই সময়ে যে রোগীরা চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন, তাঁদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এই ব্যবস্থা পালটাবে কবে? রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তারকেশ্বরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রাবণী মেলা এবার জাতীয় মেলায় পরিণত হয়েছে। তাহলে পরিষেবার মানের সঙ্গে আপস কেন?
তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইচ ডাঃ অনিমেষ হোড় বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১০২-এর দায়িত্বে যাঁরা আছেন, প্রয়োজনে তাঁদের শোকজ করা হবে।