সংবাদদাতা, চাঁচল: আমন ধান রোপণের কাজ জোরকদমে চলছে চাঁচলের দুই ফসলী জমিগুলিতে। মাঠে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ, আবার কোথাও ধানের চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। কিন্তু এখনও কৃষকবন্ধু প্রকল্পের টাকা না মেলায় বিপাকে পড়েছেন বহু চাষি। সার কেনা থেকে শুরু করে শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার মতো জরুরি খরচ জোগাতে সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা।
এলাকার চাষিদের কথায়, প্রতি বছর এই সময়ের আগে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যেত। চাষের শুরুতে টাকা পেলে আর্থিক সুরাহা হতো। কিন্তু এবছর চাষাবাদের কাজ শুরু হলেও এখনও কেউ টাকা পাননি। ফলে অনেককে ধারদেনা করে চাষের কাজ চালাতে হচ্ছে বলে দাবি। চাঁচল ১ ব্লকের সহকৃষি অধিকর্তা দীপঙ্কর দেব বলেন, নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ। আগামী সপ্তাহের মধ্যে চাষিদের অ্যাকাউন্টে কৃষকবন্ধুর টাকা ঢোকা শুরু হবে।
কলিগ্রামের মুরসেদ আলম বলেন, প্রতিবছর এই সময়ের মধ্যে কৃষকবন্ধুর টাকা পেয়ে যাই। এবার এখনও পাইনি। জমি চাষ তো থেমে থাকতে পারে না। তাই টাকা ধার করে সার, ট্রাক্টর খরচ ও চারা কিনতে হচ্ছে। গৌড়িয়ার রোসনারা বিবি বলেন, সারের দাম অনেক বেড়েছে। আবার শ্রমিকদের মজুরিও দিতে হচ্ছে। এই সময়ে যদি কৃষকবন্ধুর টাকা পেতাম, অনেকটা আর্থিক সহায়তা হতো।
কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁচল ১ ব্লকে প্রায় ৫০ হাজার উপভোক্তা কৃষকবন্ধু প্রকল্পের টাকা পান। জমির পরিমাণ অনুযায়ী কেউ পাঁচ, কেউ তিন ও আবার কেউ সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকা পান। এবার প্রায় সাড়ে সতেরো কোটি টাকা চাঁচলের চাষিরা পাবেন। প্রকৃতরাই যাতে প্রকল্পের টাকা পান, সেজন্য চাষিদের নথি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন করতে হয়। সেই কারণেই টাকা পাঠাতে কিছুটা সময় লাগে বলে কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।