নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরে কাউন্সিলারের অভাব ঘোচালো ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্প। পাড়ায় পাড়ায় সরকারি ক্যাম্প করে মানুষের চাহিদা তুলে আনল দুর্গাপুর পুরসভা। শহরের ৫১৮টি বুথের শহুরে ভোটারদের চাহিদা জানা হয়েছে। পুরসভার সূত্রে খবর, বহু প্রস্তাব এসেছিল, তাঁর মধ্যে প্রায় ১৫০০ প্রকল্পকে অনুমোদন করা হয়েছে। সেই সব প্রকল্পগুলিকেই অনুমোদন করা হয়েছে, যেগুলি থেকে বেশি সংখ্যা মানুষ উপকৃত হন। আজ, বুধবারই দুর্গাপুর পুরসভাকে নিয়ে এই প্রকল্পের কাজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন জেলাশাসক পোন্নমবলম এস। পুরসভার দাবি, বহু কাজের টেন্ডার সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। এই সপ্তাহেই ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া শুরু হয়ে যাবে। শিলান্যাস অনুষ্ঠান করা নিয়েও এদিনের বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।
দুর্গাপুর পুরসভার কমিশনার একে আজাদ বলেন, শহরের প্রতি বুথেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে শিবিরগুলিতে যোগদান করে নিজেদের চাহিদার কথা জানিয়েছেন। সোমবারই শিবির শেষ হয়েছে। প্রতি বুথে গড়ে তিনটি করে কাজের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। শহরের প্রায় ১৫০০টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
দুর্গাপুর পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, সব প্রকল্পগুলিই তিন মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে বলে ঠিকাদারদের শর্ত দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে কাজের শিলান্যাস নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আধুনিক শহর দুর্গাপুর। বহু ক্ষেত্রে উচ্চ বিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের বাস। আবার অনেক জায়গায় রয়েছে বস্তি। এই মিশ্র অর্থনীতির শহরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে কার্যত মানুষের দরজায় দরজায় পৌঁছে গিয়েছিল প্রশাসন। শুধু এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ চাওয়াই নয়, রেশন থেকে কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে ব্যক্তিগত কাজের জন্যও বাসিন্দারা শিবিরে এসে সাহায্য পেয়েছেন। শহরবাসীর একাংশের দাবি, এই শিবির অনেকটাই স্থানীয় কাউন্সিলারের অভাব পূরণ করেছে। কয়েক বছর হল দুর্গাপুর পুরসভায় নির্বাচন না হওয়ায় কাউন্সিলার নেই। পাঁচজন প্রশাসক রয়েছেন পুরসভা চালানোর জন্য। তাঁরা এক একটি বরোকে তদারকি করলেও ওয়ার্ডের বহু সমস্যার কথাই তাঁদের কাছে আসছে না। বহু ছোটখাটো সমস্যা পুরকর্তাদের কানেই আসছে না। অথচ সেই সমস্যাই এলাকার মানুষের ক্ষোভের সঞ্চার করছে। সেই ক্ষোভ মেটানোর রাস্তা হিসেবেই আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান শিবিরগুলিকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছিল পুরসভা। তার ফলে পাড়ায় পাড়ায় নানা সমস্যা উঠে এসেছে। সময় অপচয় না করে গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রস্তাবগুলি অনুমোদন দিয়ে টেন্ডার সম্পন্ন করা হয়েছে। পুরকর্তাদের দাবি, সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে স্ট্রিট লাইট না জ্বলার অভিযোগ। তারপরই রয়েছে রাস্তা সংস্কার না হওয়া নিয়ে মানুষের ক্ষোভ। কিছু জায়গায় ড্রেন ভেঙে পড়ায় নিকাশি নালা সংস্কারের দাবি এসেছে। এমনকী অনেক ক্ষেত্রে এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়েও অভিযোগ ওঠে এসেছে। দুর্গাপুরকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে তাই রাস পূর্ণিমার ছুটির দিনও দুর্গাপুর পুরসভায় এসে বিশেষ বৈঠক করতে চলেছেন জেলাশাসক।
বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই বলেন, আমাদের প্রশ্ন, দুর্গাপুরবাসী পুর নির্বাচন থেকে কেন বঞ্চিত হলেন। আমরা চাই পুর নির্বাচন হোক, তারপর মানুষের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রকৃত উন্নয়ন করবেন।