নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নন্দীগ্রামে বিজেপির দাদাগিরিতে ভণ্ডুল হয়ে গেল ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ ক্যাম্প। বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের বিজেপি পরিচালিত ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে আমতলা প্রাইমারি স্কুলের ওই ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি থেকে ধাক্কাধাক্কি বেধে যায়। শুরুতে সভাপতি নির্বাচন নিয়ে ঝামেলা বাধে। দুই দল সভাপতি হিসেবে দু’জনের নাম প্রস্তাব করে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তৃণমূল ও বিজেপি অন্য দল ভাঙিয়ে পার্টিতে জয়েন করা দু’জনকে সভাপতি হিসেবে সুপারিশ করেছিল। নির্ধারিত সময়ের আগে ক্যাম্প শুরু হয় বলে তৃণমূলের অভিযোগ। বৃষ্টির কারণে গ্রামবাসীদের ক্যাম্পে পৌঁছতে সমস্যা হচ্ছিল। শাসক দলের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পাঁচ মিনিট সময় চাওয়া হয়। তারপর সভাপতি নির্বাচন নিয়ে ভোটাভুটি শুরু করার আর্জি রাখা হয়। বিজেপির গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান সেই আর্জি শুনতে চাননি। এনিয়েই ঝামেলা বাধে। পরস্পরের মধ্যে হাতাহাতি বাধে। নন্দীগ্রাম-১ বিডিও সৌমেন বণিক বলেন, ক্যাম্পে ঝামেলা হওয়ায় একটি বুথে কাজের তালিকা জমা নেওয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আমতলা প্রাইমারি স্কুলে ‘আমাদের পাড়া’ ক্যাম্পে তালুক বৃন্দাবনপুর, আমতলা ও অনন্তপুর বুথের কাজের পরিকল্পনা জমা নেওয়ার কথা ছিল। প্রথমে তালুক বৃন্দাবনপুর গ্রামের সভা শুরু হয়। সেখানে বিজেপির প্রধান প্রতিমা পাত্র, উপপ্রধান মিনতি গোল প্রমুখ ছিলেন। এছাড়াও ব্লক প্রশাসনের এক প্রতিনিধি ছিলেন। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা সুকুমার মণ্ডলের নাম সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করে পদ্মশিবির। তৃণমূল কর্মী শঙ্কর ধাড়া তাতে আপত্তি জানান। চারমাস আগে বিজেপি ছেড়ে শঙ্কর তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের ননী মালিকের নাম সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। একদা সিপিএম কর্মী ননীও চারমাস আগে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।
সভাপতি হিসেবে দু’জনের নাম প্রস্তাবিত হতেই সভায় উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। ব্লক প্রশাসনের প্রতিনিধি সভাপতি বাছাই নিয়ে উপস্থিত গ্রামবাসীদের মধ্যে ভোটাভুটির কথা জানান। বৃষ্টির মধ্যে গ্রামবাসীদের ক্যাম্পে আসতে সমস্যা হচ্ছিল। এজন্য তৃণমূল নেতৃত্ব পাঁচ মিনিট সময় চেয়ে নেয়। এতে বিরোধিতা করেন প্রধান ও উপপ্রধান। তাঁরা ভোটাভুটির জন্য অতিরিক্ত সময় দিতে নারাজ। এনিয়েই সংঘাত চরমে ওঠে। দুই শিবিরের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও ঠেলাঠেলি হয়।