সংবাদদাতা, কান্দি: নাবালিকা গণধর্ষণ কাণ্ডে এবার নির্যাতিতার পরিবারে আসছে হুমকি। অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টিও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। নাম জড়িয়েছে পঞ্চায়েতের এক পদাধিকারীরও। শুক্রবার এনিয়ে আরএসপির একটি দল নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছয়। দলের পক্ষ থেকে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে সালার থানায় একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার রাত আটটা নাগাদ ওই নাবালিকা একটি রেস্তোরাঁ থেকে খাওয়ার পর বন্ধুর স্কুটিতে চড়ে বাড়ি ফেরার সময় পাঁচজন দুষ্কৃতী তাদের পথ আটকায় বলে অভিযোগ। এরপর নাবালিকার বন্ধুকে মারধর করলে তিনি ভয়ে পালিয়ে যেতে যান। পাঁচজন মিলে নাবালিকাকে একটি জঙ্গলে টেনে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করলেও বাকি তিনজন এখনও পলাতক।
এরপর থেকেই নির্যাতিতার পরিবারের উপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য হুমকির পাশাপাশি প্রলোভনও দেখানো হচ্ছে। নির্যাতিতার মা বলেন, থানায় অভিযোগ জানানোর পর থেকেই আমাদেরকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চরম চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি, টাকার প্রলোভনও দেখানো হচ্ছে। এক পঞ্চায়েতের ওই পদাধিকারীর মদতেই এসব হচ্ছে। তবে আমরা ভীত নই। আমার মেয়ের জীবন যারা নষ্ট করল, তাদের প্রত্যেকের ফাঁসি চাই।
যদিও পঞ্চায়েতের ওই পদাধিকারী বলেন, আমার নাম কেন জড়ানো হল, তা বুঝতে পারছি না। আমরা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছি। আমরা এটাও জানাচ্ছি, যারা এই ঘটনায় অভিযুক্ত তাদের যেন কাউকে রেহাই না পায়। প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাবালিকার বাড়ির সামনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, এদিন সন্ধ্যায় দুই মহিলা পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করতেই সেখানে হাজির হয়েছিল। বিকেলে আরএসপির পক্ষ থেকে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যায় একটি প্রতিনিধি দল। তাঁরা দীর্ঘক্ষণ নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে আরএসপির পক্ষ থেকে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। আরএসপির জেলা সম্পাদক নওফেল মহাম্মদ সফিউল্লা বলেন, নির্যাতিতার পরিবারের উপর নানাভাবে হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। পঞ্চায়েতের এক পদাধিকারী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে। নাবালিকার পরিবারে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাই প্রশাসনকে ওই পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সালার থানার পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতার পরিবারের নিরাপত্তায় পুলিশ সব সময় সতর্ক রয়েছে।