Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দলের নির্দেশে অনাস্থা প্রস্তাব ঠান্ডা ঘরেই, দুর্নীতি ধামাচাপা! বহাল তবিয়তেই পুরপ্রধান, ক্ষোভে ফুঁসছে রঘুনাথপুর

দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করেই রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন দলেরই কাউন্সিলারা।

দলের নির্দেশে অনাস্থা প্রস্তাব ঠান্ডা ঘরেই, দুর্নীতি ধামাচাপা! বহাল তবিয়তেই পুরপ্রধান, ক্ষোভে ফুঁসছে রঘুনাথপুর
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ও সংবাদদাতা রঘুনাথপুর: দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করেই রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন দলেরই কাউন্সিলারা। দুর্নীতি যে হয়েছে, তা স্বীকার করেছিল প্রশাসনও। সেই কারণেই চেয়ারম্যান পদে তরণী বাউরিকে সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করেছিল রাজ্য। তারপর বহু জল গড়িয়েছে। ফের চেয়ারম্যান পদে বহাল তবিয়তে বসে রয়েছেন তরণী বাউরিই। তারপর থেকে দুর্নীতির অভিযোগ চলে গিয়েছে ঠান্ডা ঘরে। এনিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে রঘুনাথপুর। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত ২৪ এপ্রিল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন শাসক দলের ছ’জন এবং কংগ্ৰেসের একজন কাউন্সিলার। যদিও তলবি সভা হওয়ার আগেই গত ১৯ মে একটি নির্দেশিকা জারি করে পুরবোর্ড ভেঙে দেয় রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পিছনে পুরসভার লাগামছাড়া দুর্নীতিকেই দায়ী করা হয় ওই নির্দেশিকায়। পাশাপাশি, পুরসভার অনাস্থা সংক্রান্ত বিষয়ে জেলাশাসকের থেকেও একটি রিপোর্ট চেয়েছিল পুর-দপ্তর। সেই রিপোর্টে পুরসভার বিভিন্ন দুর্নীতির পাশাপাশি অনাস্থা আনা কাউন্সিলারাদের কেউ কেউ যে ‘সৎ’ নন, তাও উল্লেখ করা হয়। 
যদিও দুর্নীতির তদন্ত না করে, দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করেই বোর্ড ভেঙে দেওয়ার বিরোধিতা করেন বিজেপি কাউন্সিলার দীনেশ শুক্লা। তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলার রায়ে রাজ্য সরকারের জারি করা ওই নির্দেশিকা নাকচ করে দেওয়া হয়। এরপরই ফের রঘুনাথপুর পুরসভার দায়িত্ব নেন তরণীবাবু। অনাস্থা আনা কাউন্সিলারদের মধ্যে মালাবিকা সাঁই, আনন্দ বাউরি এবং জয়দেব বাগদি ফের চেয়ারম্যানের প্রতিই আস্থা দেখান। সেইসঙ্গে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগই ধামাচাপা পড়ে যায়। 
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কাউন্সিলারদের একাংশের অভিযোগ ছিল, পুরসভার বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। টেন্ডার ছাড়াই লক্ষ লক্ষ টাকা প্রকল্পের কাজ করানো হয়েছে। পুরসভার বিভিন্ন পদে ‘অবৈধ’ নিয়োগ, মার্কেট কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন পুর-সম্পত্তি ঘনিষ্ঠদের স্বল্পমূল্যে লিজ দেওয়া, জয়চণ্ডী পাহাড় পর্যটন উত্সবে সাফাইয়ের নামে লক্ষাধিক টাকা নয়ছয় হয়েছে। শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘মা ক্যান্টিনে’ স্বল্প লোককে পরিষেবা দিয়ে ভুয়ো বিল আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। 
এইসব অভিযোগকে হাতিয়ার করেই অনাস্থা এনেছিলেন কাউন্সিলারা। যদিও সবকিছু ঠান্ডা ঘরে চলে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ শহরের বাসিন্দারা। বিজেপি কাউন্সিলার দীনেশবাবু বলেন, পুরসভার পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি সবরকমভাবে আড়াল করার চেষ্টা করছে প্রশাসন। অনাস্থা আনা কাউন্সিলাররাও এখন চেয়ারম্যানের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন। তাই দুর্নীতির অভিযোগও ঠান্ডা ঘরে চলে গিয়েছে। 
শহর কংগ্রেস সভাপতি তারকনাথ পরামানিক বলেন, পুরসভার একাধিক দুর্নীতি নিয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে জানিয়েছি। কিন্তু, কোনও তদন্তই হচ্ছে না। অনাস্থা আনা কাউন্সিলারদের মধ্যে প্রণব দেওঘরিয়া বলেন, অনাস্থার ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে, ওই এগজিকিউটিভ অফিসারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা শীঘ্রই আন্দোলনে নামব। সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। দল বুঝেছে বলেই আমাকে পদে বহাল রেখেছে।  তবে, এতকিছুর পরেও দুর্নীতির অভিযোগ পিছু ছাড়ছে না রঘুনাপুর পুরসভার। যে কাউন্সিলার অনাস্থা তুলে নিয়েছিলেন, তাঁদেরই একজনের বিরুদ্ধে নিজের মা এবং ভাইকে সরকারি প্রকল্পের বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল সেই ঠিকাদারই কেক কেটে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারের জন্মদিন পালন করছেন! 
 রঘুনাথপুর পুরসভা। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ