নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নকল দলিল তৈরি করে জমি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। জমির মালিক টেরও পাচ্ছেন না। ভালোভাবে যাচাই না করে জমি কেনার পর কপাল চাপড়াচ্ছেন ক্রেতারাও। শক্তিগড় থানার কৃষ্ণপুর এলাকাতে এমন ঘটনা হয়েছে। ওই ব্যক্তি জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, কৃষ্ণপুর মৌজায় ১২ শতক জায়গা ২০২১ সালে কিনেছিলাম। সেই জমিতে চাষ করছি। পরে জানতে পারি, জাল দলিল তৈরি করে আমাদের জমি বিক্রি করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান-২ ব্লকে এধরনের ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে। খাস জমি দখল করে বিক্রি করা নতুন কিছু নয়। প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিতে জমি মাফিয়ারা কিছুটা পিছু হটেছে। তবে তাদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়নি। শক্তিগড়ের এক বাসিন্দা বলেন, জমি কিনে ফেলে রাখা দায় হয়ে উঠেছে। কিভাবে অন্যজনের নামে জমি রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে না। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে ঘুঘুর বাসা না থাকলে এমনটা হতে পারে না। কয়েক দিন আগে পূর্বস্থলী ব্লকের এক ব্যক্তির ভাইরাল হওয়া ভিডিও ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। ভিডিও’তে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যাচ্ছে নকল দলিল তৈরি করা তার কাছে বড় বিষয় নয়। এই চক্র জেলায় বহুদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, অভিযোগ পেলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। খাস জমি কোথাও দখল করতে দেওয়া যাবে না। যে বা যারা ওই জমি বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জেলার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর গুলিতে সাধারণ মানুষ কোনও কাজ নিয়ে গেলে তাঁদের হয়রান হতে হয়।. বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু, কোনও কাজ দালালকে দিয়ে করালে তা সহজেই হয়ে যায়। টাকার বিনিময়ে অন্যের জমি রেকর্ড করতেও তারা পিছুপা হয় না। শক্তিগড়ের ওই ব্যক্তি বলেন, জমি কেনার পর চাষ শুরু করি। তখনও জমির মালিক কিছু জানত না। পরে কনভারশন করতে গিয়ে দেখা যায়, যার কাছে থেকে জমি কেনা হয়েছিল তিনি আসল মালিক নন। নকল দলিল তৈরি করে আমাদের জমি বিক্রি করা হয়েছে। আমাদের মতো অনেকেই প্রতারিত হয়েছেন। প্রশাসনের উচিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।