সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: চেন্নাইয়ে সূতির এক পরিযায়ী শ্রমিককে খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। সোমবার সন্ধ্যায় ওই শ্রমিকের বাড়িতে মৃত্যুর খবর আসে। মৃতের নাম অময় মাঝি(২৮)। তাঁর বাড়ি সূতি থানার হাড়োয়া পঞ্চায়েতের গাম্ভিরা গ্রামে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী সহ তিন নাবালক ছেলেমেয়ে রয়েছে। ওইদিন বিকেলে ভাড়াবাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি। পরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারেন সহকর্মীরা। তাঁরাই বাড়িতে দুঃসংবাদ দেন। মঙ্গলবার তাঁর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়। দেহ বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আনার আর্জি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
সূতির বিধায়ক ইমানী বিশ্বাস বলেন, দলের কর্মীদের মুখেই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারি। দেহ ফিরিয়ে আনতে যা করনীয় তা করা হবে। আমাদের দল ও আমরা ওই পরিবারের পাশে থাকব।
জানা গিয়েছে, মাস তিনেক আগে চেন্নাইয়ে রাজমিস্ত্রির কাজে যান অময়বাবু। চেন্নাইয়ের তাম্বারাম এলাকায় একটি বহুতল নির্মাণ চলছিল। ওইদিন কাজ শেষে বিকেলে ভাড়াবাড়ি থেকে বের হন অময়বাবু। তিনি বাড়িতে সহকর্মীরা খোঁজখবর শুরু করেন। পরে সহকর্মীরা রাস্তার তাঁর দেহ পড়ে রয়েছে বলে খবর পান। মৃতের বউদি মাধবী মাঝি বলেন, ওর বন্ধুরা ফোনে মৃত্যুর খবর দিয়েছে। আমরা যতটুকু জেনেছি অময় ঘুরতে বেরিয়েছিল। একটা ছেলে ঘুরতে বেরিয়ে তার মৃত্যুর খবর আসছে। ওকে কেউ খুন করে ফেলে দিয়েছে। দেহ গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে দেহ নিয়ে আসতে লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজন। এত টাকা খরচ করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। সেজন্য মৃতদেহ ফিরিয়ে আনতে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছে মৃতের পরিবারের সদস্যরা।
হাড়োয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রাখি রবিদাস বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের মারধর ও খুন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কী হয়েছে পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। দেহটি যাতে ফিরিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে স্থানীয় বিধায়ক ও সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। তাঁরা চেষ্টা করছেন।