Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রাম মেডিকেলে শিশু মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎকার গাফিলতিতে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। এই অভিযোগ তুলে শুক্রবার রাতে পরিবারের সদস্যরা প্রসূতি বিভাগের সামনে বিক্ষোভ দেখান।

ঝাড়গ্রাম মেডিকেলে শিশু মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎকার গাফিলতিতে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। এই অভিযোগ তুলে শুক্রবার রাতে পরিবারের সদস্যরা প্রসূতি বিভাগের সামনে বিক্ষোভ দেখান। ঝাড়গ্রাম থানায় চিকিৎকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সুপার অনুরূপ পাখিরা বলেন, পাঁচজন সদস্যর মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তাঁরা তদন্ত করে দেখবেন। চাকুলিয়া থেকে আসা প্রসূতিকে সতর্ক নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার সকালে বিনপুর থানার নারায়ণপুর গ্ৰামের বাসিন্দা দেবশ্রী দে গর্ভবতী অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। শুক্রবার সকাল থেকে তাঁর প্রসব যন্ত্রণা বাড়তে শুরু করে। পরিবারের তরফে চিকিৎসকদের প্রয়োজনে সিজার করার কথা বলা হয়েছিল। প্রসব বেদনা আরও বাড়লে প্রসূতিকে লেবার রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তিনি এক শিশুকন্যার জন্ম দেন। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে তাঁদের দেখানো হয়েছিল। এরপর শিশুটিকে  হাসপাতালের অপর একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০ মিনিট পর তাদের জানানো হয়, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এরপরেই প্রসূতি বিভাগের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ হাসপাতালে আসে। দেবশ্রীর দাদা প্রসেনজিৎ দে রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। 
দেবশ্রীদেবীর স্বামী বুবাই দে হাসপাতালে বসে বলেন, সন্তান হারিয়ে আমি বিধ্বস্ত। সকাল থেকে চিকিৎসকরা সব ঠিক আছে বলে জানিয়েছিলেন। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরেও শিশুটি বেঁচেছিল। আমার স্ত্রী জানান, বাচ্চাটি কাঁদছিল। মিনিট ২০ পরে জানানো হয়, মারা গিয়েছে। এটা মেনে নিতে পারছি না। গাফিলতি না হলে এমনটা হত না। থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। বিচার চাইছি। 
অন্যদিকে, শুক্রবার রাত আড়াইটা নাগাদ ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া এলাকার নিশু কুমারী নামের এক প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসপাতালের তরফে জানানো হয়, গর্ভাবস্থায় থাকা শিশুটি মারা গিয়েছে। কিন্তু এখনই মৃত শিশুটিকে পেট থেকে বের করা সম্ভব নয়। পরিবারের সদস্যরা রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের এক বিভাগ থেকে আর এক বিভাগে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ান। 
প্রসূতির দাদা শিব শঙ্কর ঠাকুর বলেন, বোনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। বোনের কিছু হলে এরা কোনো দায় নেবে না। আমরা এখন কী করব, বুঝে উঠতে পারছি না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ