নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বরানগর জুড়ে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে গুন্ডামির অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোথাও পুজোর বিসর্জনে যাওয়া যুবককে বেধড়ক মারধর ও খুনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ, কোথাও আবার চপের দোকান বসানোর জন্য ৫০ হাজার টাকা না পেয়ে মহিলাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এইসব অভিযোগ, বিজেপির কোনও নীচুতলার কর্মীর বিরুদ্ধে নয়, মণ্ডল সভাপতি সহ শক্তিকেন্দ্র প্রমুখদের বিরুদ্ধে। তাই নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়েছে পদ্মপার্টির অন্দরমহলে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট ধারায় অভিযোগ দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও অভিযুক্তরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বরানগরের রায় মোহন ব্যানার্জি লেনের বাসিন্দা শুভ বিশ্বাস বনহুগলি শিব সেবক সমিতির সদস্য। গত ২০ তারিখ রাতে শুভ ওই ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে গণেশ ঠাকুরের বিসর্জন দিতে বেরিয়েছিলেন। ওই সময় বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সৌমেন মিস্ত্রীর নেতৃত্বে একদল কর্মী আচমকা সেখানে হাজির হয়। এরপর শুভকে পাশের গলিতে ডেকে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে ফেলে রেখে যায়। আক্রান্ত যুবককে তাঁর বন্ধুরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে ওই যুবক বাইপাসের এক নার্সিংহোমের আইসিইউ’তে ভর্তি। এই ঘটনায় সৌমেন মিস্ত্রী সহ ছয় বিজেপি নেতা-কর্মীর নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ বিএনএসের ১১৮(২) ও ৩০৩(২) ধারায় অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। আক্রান্ত যুবকের বাবা মনা বিশ্বাস বলেন, সৌমেন মিস্ত্রীর নেতৃত্বে আমার ছেলেকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ছেলে আইসিইউতে ভর্তি। সৌমেন মিস্ত্রী বলেন, আরআইসি বাজারে নেশার ঠেককে ঘিরে ঝামেলা। শুভরা দলবল নিয়ে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করেছিল। পালটা ওই ব্যবসায়ীর পরিচিতরা তাদের মারধর করে। আমার নামে মিথ্যে অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বরানগর কুঠিঘাটের পুরনো থানা লাগোয়া পার্কের সামনে নতুন করে চপ ভাজার গুমটি বসিয়েছিলেন গুড়িয়া পাঠক। আগে কাঁচের মন্দির লাগোয়া এলাকায় তাঁর দোকান ছিল। গুড়িয়াদেবীর অভিযোগ, ওই জায়গায় চপ দোকান দেওয়ার জন্য তিনি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ শুক্লা হালদারকে আগে বলেছিলেন। দোকান করার পর শুক্লাদেবী ও পাশের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের শক্তি কেন্দ্র প্রমুখ সরিতা বিশ্বাস তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা চায়। তিনি দিতে পারবেন না জানানোয়, ওই দুই বিজেপি নেত্রী মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় অধিকারীকে ডেকে আনে। তাঁকে মারধর করা হয়। দোকান পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। সঞ্জয়বাবু বলেন, ওই জায়গায় নতুন দোকান বসানোর প্রতিবাদ করেছিলেন দুই শক্তি কেন্দ্র প্রমুখ। এভাবে দোকান বসতে শুরু করলে বরানগরের কোথাও রাস্তার অস্তিত্ব থাকবে না। তাই হয়ত এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সতীন সেন নগরে ছুরি হাতে হুমকি দিতে দেখা যায় বিজেপি এক কর্মীকে। মত্ত অবস্থায় থাকা ওই ব্যক্তির ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।