Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অন্তঃসত্ত্বাকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ, রানাঘাটে প্রতিবাদের নামে দাদাগিরি বিজেপির

অন্তঃসত্ত্বাকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ, রানাঘাটে প্রতিবাদের নামে দাদাগিরি বিজেপির
  • ২১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গর্ভবতী মহিলাকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে  ধুন্ধুমার রানাঘাটে। প্রতিবাদের নামে রীতিমতো তান্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। প্রথমে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ। পরে সেই বিক্ষোভ আছড়ে পড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের হেনস্তা, মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা, চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা হয় বলে অভিযোগ। পাল্টা প্রতিবাদে কাজ বন্ধ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে অবস্থানে বসে যান মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা। পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুলিসের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছেন স্বয়ং পুরসভার চেয়ারম্যান। তা না হলে কর্মবিরতির পথে হাঁটবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।  ঘটনার সূত্রপাত ৭ মে। রানাঘাট পুরসভার ঠিক বিপরীতে ডিসপেনসারি লেনে থাকা পুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেবেন্দ্রনগর এলাকার বাসিন্দা ননী দেবনাথ। অভিযোগ, সেখানে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁর স্ত্রী মনিকা দেবনাথকে কিছু ওষুধ দেন। প্রায় দশ দিন সেই ওষুধ খাওয়ার পর হঠাৎ একদিন মনিকার বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দিলে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়টি নজরে আসে তাঁদের। দেখা যায়, নির্দিষ্ট একটি ওষুধের মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে এপ্রিল মাসেই। এরপরই ভুক্তভোগী এই পরিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রানাঘাট থানায়। যদিও তার আগেই চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উদ্যোগ নিয়ে ওই মহিলাকে একাধিক সরকারি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। প্রত্যেকেই আশ্বস্ত করেন, যে ওষুধটি নিয়ে সমস্যা সেটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও বড় ধরনের সমস্যা কিছু হবে না। 

Advertisement

এদিকে, মঙ্গলবার এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে ওঠে ডিসপেনসারি লেন এবং সুভাষ অ্যাভিনিউ। বিজেপির তরফে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা লাগিয়ে শুরু করা হয় বিক্ষোভ। পরে খুলে দেওয়া হয় সেটি। ততক্ষণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। নোডাল অফিসারের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। সমস্ত ওষুধের স্টক মেলানোর নির্দেশ দেন। ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নোডাল অফিসার চিকিৎসক অভিরূপ মুখোপাধ্যায় বলেন, তদন্ত হচ্ছে। যে স্বাস্থ্য কর্মীরা এই মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দিয়েছিলেন তাঁদের ক্লোজ করা হয়েছে। তবে ওই ওষুধটি একটি মিনারেল ওষুধ। মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে তার মিনারেলের মাত্রা কমে যায়। এতে শরীরে ক্ষতি হয় না।  চিকিৎসকদের আশ্বাসকে বিক্ষোভকারীরা পাত্তা দেয়নি। উল্টে  গোটা পরিস্থিতিকে বিগড়ে দেয় বলে অভিযোগ। কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, রাস্তায় বিক্ষোভ দেখানোর মধ্যেই কিছু বিজেপি কর্মী আচমকা ঢুকে পড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতর। হেনস্তা করা হয় চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের। মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টাও হয়। ঘটনাটি শুনে চেয়ারম্যান ফের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকতে গেলে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বাঁধে তাঁর। তিনি জানান, কোনও স্টকের ওষুধ মেয়াদ উত্তীর্ণ পাওয়া যায়নি। নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। আমি ওই পরিবারটিকে নিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে গিয়েছি। প্রতি জায়গাতেই তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। বিজেপি প্রতিবাদের নামে স্বাস্থ্যকর্মীদের উপরে গায়ে হাত দিয়েছে। পুলিস সেই সময় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ