নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এতদিন ফোনের ওপারে থেকে সাইবার অপরাধীরা ‘অপারেশন’ চালাত। প্রথম দিকে ব্যাঙ্ক আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ওটিপি হাতিয়ে নিত। সেই পন্থা পুরনো হওয়ার পর তারা লিঙ্ক পাঠাতে থাকে। পুলিস লাগাতার প্রচার করায় অনেকে এই বিষয়েও সতর্ক হয়ে উঠেছে। সেই কারণে এবার আর ফোন নয়, প্রতারকরা সরসারি উপভোক্তার কাছে পৌঁছে টাকা হাতাচ্ছে। মেমারির মহিষপুর গ্রামের এক বাসিন্দার কাছে তারা প্রায় দেড় লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ।
বুলবুল মণ্ডল নামে ওই ব্যক্তি বলেন, গ্রামে আমার একটি দোকান রয়েছে। গত ১৩ মে এক ব্যক্তি ফোন করে লোন নেওয়ার আবেদন করে। সে আমার নাম, দোকানের নাম আগে থেকেই বলে দেয়। সেই কারণে তার উপর আস্থা জন্মায়। সে নিজেকে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের আধিকারিক বলে পরিচয় দেয়। টাকা দরকার ছিল। লোন নিতে সম্মতি জানিয়েছিলাম। ১৫ মে এক ব্যক্তি আমার কাছে আসে। সে লোনের জন্য দোকানের ছবি করে। সে আধার কার্ড সহ ব্যাঙ্কের বিভিন্ন নথি চায়। সরল বিশ্বাসে সেটা দিয়ে দিই। পরে ব্যাঙ্কে গিয়ে জানতে পারি প্রায় দেড় লক্ষ টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। ওই নম্বরটিও ব্লক হয়ে যায়।
বুলবুলবাবু থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তিকে আগে কখনও দেখিনি। ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও নিজে থেকেই বলতে থাকে। সেই কারণেই ভেবেছিলাম সে ব্যাঙ্কের আধিকারিক।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা নিজের মোবাইল নম্বর অপরাধ করার সময় ব্যবহার করে না। অন্যের নথি দিয়ে সিমকার্ড তুলে তারা ফোন করে। সেই কারণে ফোন নম্বর ধরে প্রতারকদের কাছে পৌঁছনো চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়। অনেক সময় ভিনরাজ্যের সাইবার প্রতারকরা কোনও এলাকায় ডেরা বেঁধে প্রতারণা করে। এক্ষেত্রে বাইরের কোনও প্রতারক টাকা হাতিয়েছে, নাকি স্থানীয় কেউ প্রতারণা করেছে, তা পুলিস খতিয়ে দেখছে। এক আধিকারিক বলেন, চেকের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়েছে। সাইবার প্রতারকরা সাধারণত অনলাইনের মাধ্যমে টাকা হস্তান্তর করে। এক্ষেত্রে তারা চেক ক্লোন করেছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত বা ব্যক্তিগত কোনও নথি কাউকে জানাতে নিষেধ করা হয়। তারপরেও অনেকেই সেটা করছে। তারাই প্রতারকদের জালে জড়িয়ে যাচ্ছে।