নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ভুল চিকিৎসায় চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। রবিবার শান্তিপুরের একজন চক্ষু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ এনে পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছেন এক ব্যক্তি। ইতিমধ্যেই সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যতলাশ শুরু করেছে শান্তিপুর থানার তদন্তকারী আধিকারিকরা। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই চিকিৎসক।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী সুজিত বিশ্বাস শান্তিপুর থানা এলাকার বাগআঁচড়া গ্রামের বাসিন্দা। চোখের সমস্যা নিয়ে তিনি শান্তিপুরেরই চক্ষু চিকিৎসক অরূপ রায়ের কাছে দেখাতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, ওই চিকিৎসক ভুল চিকিৎসা করেছেন। যার জেরে তাঁর বাঁদিকের চোখ নষ্ট হতে বসেছে। পরবর্তীতে তিনি শান্তিপুরের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে সেখান থেকেই তিনি জানতে পারেন তাঁর বাঁদিকের চোখটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি তুলে ফেলা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর সুজিতবাবু বলেন, গত ১৬ জুলাই আমি ওই চিকিৎসকের কাছে দেখাতে গিয়েছিলাম। তিনি কিছু ওষুধপত্র দিয়েছিলেন। তার মধ্যে একটি ড্রপও ছিল। কিন্তু, তাতে সমস্যা তো কমেইনি উল্টে বেড়ে গিয়েছে। সেজন্য বাধ্য হয়েই আমি শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার দেখাই। সেখান থেকে আমাকে বলা হয় আমার বাঁ চোখটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমার স্থির বিশ্বাস ওই চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমি গরিব মানুষ। চোখ না থাকলে গোটা পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে। তাই আমি পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছি।
যদিও ওই চক্ষু চিকিৎসক ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই রোগীকে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিফাঙ্গাস ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। চোখের মণির কাছে একটি ঘা হয়েছিল। আমি বলে দিয়েছিলাম দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ফের আমার কাছে চেকআপের জন্য আসতে। কিন্তু, উনি আসেননি। এছাড়াও আমার সন্দেহ উনি বাইরে থেকে অন্য কোন ওষুধও ব্যবহার করে থাকতে পারেন। কারণ, আমি যা ওষুধ দিয়েছিলাম তাতে চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা নয়। উনি গত ১৬ জুলাই আমার কাছে এসেছিলেন। যদি প্রেসক্রাইব করা ওষুধে ওঁর চোখের সমস্যা বেড়ে গিয়ে থাকে তাহলে তখনই তিনি কেন আমার কাছে এলেন না। অথবা অন্যত্র চিকিৎসার জন্য গেলেন না? প্রায় দুই সপ্তাহ পর উনি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে যান।
সুজিতবাবুর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানার পুলিস। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা খোঁজখবর নিয়ে অভিযোগের সত্যতা এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছেন। চোখ দেখাচ্ছেন। সেই ব্যক্তি। -নিজস্ব চিত্র