নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঘাগড়া ও বারিঘটি বন সুরক্ষা কমিটির বিরুদ্ধে পর্যটকদের থেকে রসিদ দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম এদিন বলেন, পর্যটকদের থেকে এই বিষয়ে কোনও লিখিত অভিযোগে আসেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বেলপাহাড়ীতে বনসুরক্ষা কমিটি দু’টির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে রসিদ দিয়ে পর্যটকদের কাছে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। বনবিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। পর্যটকদের অভিযোগ, পর্যটনস্থলগুলিতে নতুন রসিদে আবার টাকা নেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কখনও আবার সহযোগিতা চাওয়ার নামে টাকা চাওয়া হচ্ছে। বাইরে থেকে আসা পর্যটকরা হয়রানির ভয়ে সেই টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। বারিঘাটি বন সুরক্ষা কমিটি অবশ্য টাকা নেওয়া বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। বারিঘাটি বিরসা স্কুল লেখা রসিদ দিয়ে এখন পর্যটকদের কাছে সাহায্য চাওয়ার কথা স্বীকার করা হয়েছে। পর্যটকদের কাছে এইভাবে সাহায্য চাওয়া সঙ্গত কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। পর্যটকদের অভিযোগ, সাহায্য চাওয়ার নাম করে প্রকারান্তরে চাপ দেওয়া হচ্ছে। বাইরে থেকে আসা পর্যটকরা কখনও স্বেচ্ছায়, কখনও আবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কলকাতার নিউ গড়িয়ার বাসিন্দা স্বর্ণশিখর রায়চৌধুরী বলেন, পরশুদিন চারজন মিলে বেলপাহাড়ীতে আসি। এদিন গাড়িতে করে ঘাড়গায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা রসিদ দিয়ে ৫০ টাকা নেওয়া হয়। যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই রসিদ ধরিয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছে। কীসের জন্য টাকা নেওয়া হচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না। কলকাতার বিরাটির বাসিন্দা প্রশান্ত দে সরকার বলেন, পাহাড় পুজোর সময়ে এই বছর বন্ধুদের সঙ্গে ঘাগরা ও গাডরাসিনী বেড়াতে গিয়েছিলাম। ঘাগড়াতে হাবিজাবি রসিদ ধরিয়ে ৪০ টাকা নেওয়া হয়। গাডরাসিনী গেলে ৮০ টাকা চাওয়া হয়। গাড়ি ঘুরিয়ে সেখান থেকে চলে আসি। বনসুরক্ষার জন্যেই যদি টাকা নেওয়া হয়, তাহলে ঘাগড়ার মতো পর্যটনস্থলে থার্মোকলের পাতার স্তুপ, মদের বোতল পড়ে আছে কেন? ২০১৫ সাল থেকে এখানে বেড়াতে আসছি। এমন হুজ্জুতি আগে দেখিনি। পর্যটকদের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে বলেই মনে করছি। বারিঘাটি বন সুরক্ষা কমিটির সদস্য নিশিথ মুন্ডা বলেন, পর্যটনস্থলের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা জন্য ২০২৪ সালে যে রসিদ দিয়ে টাকা নেওয়া হতো, তা বন্ধ করা হয়েছে। যাঁরা বেড়াতে আসেন, তাঁর এখনও থার্মোকলের থালা ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলে চলে যান। জঙ্গল ও পর্যটনস্থলে দূষণ ছড়ায়। পর্যটনস্থলের সৌন্দর্যহানি হয়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন আমাদের করতে হয়। যাঁরা স্বেচ্ছায় দেন, তাঁদের কাছে এখন অন্য একটা রসিদ দিয়ে টাকা নেওয়া হয়। জোরজবরদস্তির কোনও প্রশ্ন নেই। যে টাকাটা নেওয়া হয়, গ্ৰামের গরিব ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ও টিউশন ফির খাতে ব্যবহার করা হয়। পর্যটকরা বেড়াতে আসেন, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জঙ্গল ও পর্যটনস্থলের দূষণ নিয়ে মাথা ঘামান না।