সংবাদদাতা, তেহট্ট: আমানতকারীদের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল বেতাই সমবায় সমিতির এক অস্থায়ী কর্মীর বিরুদ্ধে। বঙ্কিম হালদার নামে ওই কর্মীর বিরুদ্ধে তেহট্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে বেতাই ইউনিয়ন লার্জ এসপিসিএ কোঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড (ইউএলএসপিসিএসিএস) নামে ওই সমবায় কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
আমানতকারীদের সূত্রে জানা যায়, তাঁরা প্রত্যেক দিন বেতাই সমবায়ের কর্মী বঙ্কিম হালদারের কাছে ‘ডেইলি সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট’-এর টাকা জমা দিতেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে দোকান ও বিভিন্ন আমানতকারীদের বাড়িতে গিয়ে টাকা তুলে আনতেন। সমবায় সমিতি থেকে ইস্যু করা বইয়ে সেই টাকা জমা করে দিতেন। কিন্তু তিনি যে সেই টাকা নিয়ে সমিতিতে জমা দিচ্ছেন না, তা এতদিন বোঝা যায়নি। দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসে দিন কয়েক আগে। ম্যাচিওরিটি হয়ে যাওয়ার পরও আমানত ফেরত দেওয়া নিয়ে তিনি গ্রাহকদের ঘোরাতে থাকেন। অবশেষে কয়েকজন গ্রাহক সমবায় সমিতির অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সমবায় সমিতিতে টাকা জমা তো দূরের কথা, তাঁদের নামে কোনও অ্যাকাউন্টই খোলা হয়নি। এই খবর জেনে আমানতকারীদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।
আমানতকারীদের একাংশ জানান, সমবায় কর্মী বঙ্কিম হালদার সকাল বিকেল টাকা তুলে নিজের কাছে রেখে মাসে একবার জমা করত বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু পাস বুকে টাকার অংক তুলে দিলেও সমবায় সমিতির অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা জমা পড়ত না। বঙ্কিমবাবু আমানতকারীদের একাংশের নামে সমবায়ে কোনও অ্যাকাউন্টই খোলেননি। এক বছরের বেশি সময় ধরে গ্রাহকদের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
সর্বপ্রথম দুর্নীতির কথা জানা যায় বেতাই সাধুবাজার গ্রামের দেবেন দাসের আমানত গত মাসের ৭ তারিখে ম্যাচিওর হওয়ার পর। টাকা না পেয়ে অফিসে গিয়ে তিনি জানতে পারেন প্রতারণার কথা। দেবেনবাবু টোটো চালক, তিনি সারাদিন টোটো চালিয়ে রোজগারের একটা অংশ বঙ্কিম হালদারের কাছে তুলে দিতেন। তাঁর সর্বমোট ২৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে বলে জানান। অফিসে গিয়ে জানতে পারেন তাঁর নামে কোনও অ্যাকাউন্টই খোলা হয়নি।
আমানতকারী আনন্দ বিশ্বাসও টোটো চালান। তিনি প্রত্যেক দিন বঙ্কিম হালদারের কাছে ১০০ টাকা করে জমা রাখতেন। তার বইতে ৩৬ হাজার টাকা জমা হয়। ম্যাচিওর হওয়ার পরও টাকা না পেয়ে অফিস গিয়ে জানতে পারেন তার নামেও অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি। একই ভাবে চুটকি ঘোষ, বিনয় ঘোষ, সুখেন্দু বিশ্বাস সকলেই জানান তাঁরাও প্রতারিত হয়েছেন। তাঁদের মতো আমানতকারীদের টাকা নিয়ে সেই টাকা ছোট ছোট আমানতকারীদের ম্যাচিওরিটি ভ্যালু হিসেবে ফেরত দিতেন বঙ্কিম। এইভাবে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন।
সমবায় সমিতির ম্যানেজার সঞ্জিত ভক্ত জানান, আমাদের অফিসে ডেইলি কালেকশন দীর্ঘদিন আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছে, রেকারিং চালু আছে। আর বঙ্কিমবাবু অফিসের একজন অস্থায়ী কর্মী, তিনি অফিস টাইমের বাইরে কোথা থেকে কীভাবে টাকা তুলেছেন, তার দায়ভার সমবায়ের উপর বর্তায় না। তবু আমানতকারীকে আশ্বস্ত করেছি, বিষয়টা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে। সমবায় সভাপতি বিষ্ণু হালদার বলেন, বিষয়টা শুনেছি, বঙ্কিম হালদার একজন অস্থায়ী কর্মী। তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে। আমানতকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, প্রায় চার লক্ষ টাকা এই ভাবে তোলা হয়েছে। আমরা পুলিশে অভিযোগ করেছি।