শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে ঢাকঢোল পিটিয়ে ‘কর্মসংবাদ’ পোর্টাল চালু করেছিল শ্রমদপ্তর। কোনও এক অজ্ঞাত কারণে সেটা বন্ধ প্রায় দু’বছর। আর সেই সুযোগে বিভিন্ন কারখানা ও এজেন্সিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ ওঠছে। কাঠগোড়ায় তোলা হচ্ছে শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের।
ক’দিন আগে হলদিয়া বন্দরে এজেন্সির মাধ্যমে মহিলা সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ হয়। সেখানে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। গত ২৯ অক্টোবর বন্দরের ডেপুটি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা পড়ে। তার রেশ এখনও কাটেনি। তারমধ্যেই বন্দরে গাড়ি সরবরাহ করা আর এক এজেন্সির ড্রাইভার নিয়োগ ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোমবার ওই নিয়োগ ঘিরে একটি অডিও (সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান) গোটা শিল্পাঞ্চলে ভাইরাল হয়েছে। তাতে আইএনটিটিইউসি’র কোর কমিটির এক নেতার হস্তক্ষেপে ওই নিয়োগ বলে সেই কথোপকথনে উঠে এসেছে। জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল বলেন, ‘কর্মসংবাদ পোর্টালের বিষয়টি খোঁজ খবর নেব।’
হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন কারখানা ও এজেন্সিতে কর্মী নিয়োগে স্বজনপোষণ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যারা যখন শাসন ক্ষমতায় থাকে, তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ ওঠে। এই গতনুগতিক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ‘কর্মসংবাদ’ নাম একটি পোর্টাল চালু করে। নিঃসন্দেহে সাধু উদ্যোগ। পোর্টালের সৌজন্যে শিল্পাঞ্চলে যাবতীয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছিল। তাতে স্বচ্ছ একটা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। অনেক বেকার যুবক-যুবতী যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার নিরিখে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। কোন কারখানায়, কত কর্মী প্রয়োজন, তা এক ক্লিকে জানা যেত। কোথায় কতজন নিয়োগপত্র পেলেন, সেই তথ্যও শ্রমদপ্তরের কাছে জমা থাকত। এই পদ্ধতিকে মডেল ঘোষণা করে গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক। কিন্তু, নানা কারণে সেই পোর্টাল প্রায় দু’বছর বন্ধ। ফলে, আবারও পেছনের দরজা দিয়ে নিয়োগ শুরু হয়েছে। বিতর্কে জড়াচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক নেতারা।
গত ২৯ অক্টোবর নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের শামসাবাদের শেখ জিয়াউর হোসেনের স্ত্রীর শম্পা খাতুন লেডি সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ ঘিরে দুর্নীতি হয়েছে বলে বন্দরের ডেপুটি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। একটি সংস্থা বন্দরে নিরাপত্তারক্ষী সাপ্লাই করে। তারা নিয়োগের জন্য ১৮ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষা নেয়। তার তিনদিন আগে প্রশ্নপত্র বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর জন্য মাথাপিছু পাঁচ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ। তা নিয়ে এখন তোলপাড় শিল্পাঞ্চল।
সোমবার বন্দরের গাড়ি সাপ্লাই দেওয়া ওই সংস্থার চারজন ড্রাইভার নিয়োগ ঘিরেও প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই সংস্থার একটি মাদার সংগঠন বন্দরে মালপত্র লোডিং, আনলোডিং সহ অন্যান্য কাজে লেবার সরবরাহ করে। গত জুন-জুলাই নাগাদ ওই সংস্থা ৫০ জনকে কাজ থেকে বসিয়ে দেয়। প্রতিবাদে আন্দোলন হয়েছে। তমলুকে জেলাশাসক অফিসে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকও হয়েছে। সেখানে তাঁদের কাজে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। জানা গিয়েছে, ওই ৫০ জনের মধ্য থেকেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ড্রাইভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলেও সেটা মানা হয়নি। আইএনটিটিইউসি’র ডিস্ট্রিক্ট কোর কমিটির এক নেতার হস্তক্ষেপে বাইরে থেকে চারজনকে নিয়োগ করা হয়েছে। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের ডিস্ট্রিক্ট কোর কমিটির সদস্য প্রদীপ দে বলেন, ‘বন্দরের একটি সংস্থা চারজন ড্রাইভার নিয়োগ করেছে বলে মঙ্গলবার শুনেছি। এখন কাজ পাওয়ার দাবিদার অনেকা। কিন্তু, কাজের সুযোগ কম। তাই নিয়োগ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।’