Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরকর্মীদের রেনকোট বিলিতে বেলাগাম দুর্নীতির অভিযোগ

বাসিন্দাদের অনেকেই ভেবেছিলেন, বৃষ্টিতে হয়তো আর বাড়ি বাড়ি অবর্জনা সংগ্রহে আসবেন না সাফাই কর্মীরা

পুরকর্মীদের রেনকোট বিলিতে বেলাগাম দুর্নীতির অভিযোগ
  • ৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: কয়েকদিন আগের কথা। সকাল থেকেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। বাসিন্দাদের অনেকেই ভেবেছিলেন, বৃষ্টিতে হয়তো আর বাড়ি বাড়ি অবর্জনা সংগ্রহে আসবেন না সাফাই কর্মীরা। কিন্তু তাঁরা এলেন! রেনকোট পরে। অবাক হয়ে গিয়েছিলেন বাসিন্দাদের অনেকেই। তবে, বৃষ্টির থেকে বাঁচাতে পুরসভার তরফে যে রেনকোট দেওয়া হয়েছিল সাফাই কর্মীদের, তাতে যে দুর্নীতির গন্ধ লেগে থাকবে, তা কি আর ভেবেছিলেন কেউ!

Advertisement

জল, বিদ্যুৎ, সাফাই সহ বিভিন্ন বিভাগ মিলিয়ে পুরুলিয়া পুরসভায় মোট প্রায় ১৬০০ জন কর্মী রয়েছেন। কর্মীদের সিংহভাগই অস্থায়ী। পুরুলিয়া পুরসভা সূত্রের খবর, এরমধ্যে প্রায় সাড়ে আটশ জন কর্মীকে এখনও পর্যন্ত রেনকোট বিতরণ করেছে পুরুলিয়া পুরসভা। পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিভাসরঞ্জন দাস বলেন, ‘একদিন হঠাৎ দেখি সাফাই কর্মীরা রেনকোট পরে কাজ করছে। পরে জানতে পারি পুরসভার থেকেই তাদের রেনকোট দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলারদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চেয়ারম্যান।’ একই দাবি কাউন্সিলার ফাইজাল কামাল (শাহি), রবিশঙ্কর দাসের। তাঁরা বলেন, ‘এ ব্যাপারে কাউন্সিলারদের সঙ্গে আগে আলোচনা করা উচিত ছিল। কোথা থেকে রেনকোটের এল, কে এত টাকার বন্দোবস্ত করল, আমরা কিছুই জানি না।’ কাউন্সিলার সুনয় কবিরাজ, প্রদীপ ডাগা বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরাও কিছু জানতাম না।’ 
এনিয়ে চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালির সাফাই, ‘টেন্ডার করা উচিত ছিল। কিন্তু যেভাবে এক টানা বৃষ্টি হচ্ছিল, তাতে কর্মীদের আগে রেনকোট দেওয়া প্রয়োজন ছিল। তাই জরুরিভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টেন্ডার করে রেনকোট বিতরণ করতে গেলে শীতকাল চলে আসত!’ কাউন্সিলারদের একটি সূত্রের খবর, পুরসভার তরফে মোট ১৬০০ রেনকোট কেনা হয়েছে। একেকটি রেনকোট কিনতে নাকি খরচ হয়েছে ১২০০ টাকা! যদিও অর্ধেকই বিতরণ হয়েছে। বাকি গোডাউনে পড়ে রয়েছে। কেন বিতরণ হল না? এক কাউন্সিলার বলেন, পুরসভায় তো প্রচুর ভূতুড়ে কর্মী আছে। তাই হয়তো দেওয়ার লোক খুঁজে পায়নি। এই বিষয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান ময়ূরী নন্দীর মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। ময়ূরী বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে কিনতে গেলেও তো বোর্ডের অনুমোদন লাগে। চেয়ারম্যন কি জরুরি ভিত্তিতে বোর্ড মিটিং ডেকেছিলেন? আসলে চেয়ারম্যান নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের ঘনিষ্ঠদের রেনকোটের বরাত পাইয়ে দিতে চাইছেন।’ ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘কোনও কাগজপত্র ছাড়াই ১৬০০ রেনকোট কেনা হয়ে গেল কীভাবে? এরপর যদি কোটেশন জমা দিয়ে সেই টাকা এজেন্সিকে পাইয়ে দেওয়া হয়, তা কি আর্থিক তছরুপ নয়?’ শুধু তাই নয়, যে রেনকোট বিতরণ হয়েছে, তা একেবারে নিম্নমানের বলেও অভিযোগ তুলেছেন ময়ূরী নন্দী। এত প্রশ্ন ওঠায় ক্ষুব্ধ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘দেড়শ বছরের পুরসভার ইতিহাসে এই প্রথম কোনও চেয়ারম্যান পুরকর্মীদের রেনকোট বিতরণ করছে। কই, এনিয়ে তো কেউ কথা বলছেন না?’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ