নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ময়নায় এনজিও পরিচালিত হোমে শিশুদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় ওই হোম আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। সেখানে কোনও আবাসিক থাকবে না। সরকারি সহায়তাও মিলবে না। জেলা সমাজ কল্যাণ দপ্তরের রিপোর্টের ভিত্তিতে এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হোমের কর্মকর্তা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আপাতত ওই হোম বন্ধ থাকবে বলে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত। শুক্রবার জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল বলেন, ওই হোম নিয়ে একটা তদন্ত হয়েছে। আপাতত সেখানে কোনও আবাসিক থাকবে না বলেই ঠিক হয়েছে।
ময়না থানার পশ্চিম নৈছনপুরে এনজিও পরিচালিত ওই হোম ঘিরেই বিতর্ক তুঙ্গে। ২০১৫সালে এনজিও পরিচালিত ওই হোম তৈরি হয়। পুলিশের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া শিশুদের(বয়েজ) চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির নির্দেশে ওই হোমে রাখা হত। নিয়ম মেনে হোমে সিসি টিভির নজরদারি রয়েছে। সেই নজরদারি সত্ত্বেও হোমে কর্মীরা আবাসিকদের উপর অকথ্য অত্যাচার চালাত বলে অভিযোগ। সিসি টিভির ফুটেজে সেই ছবি ধরা পড়েছে। শিশুর মুখ ফেটে রক্ত বেরনোর ঘটনাও সামনে এসেছে। প্রায়ই এধরনের ঘটনা ঘটত। জানা গিয়েছে, হোমের মধ্যে অত্যাচারের ঘটনা নিয়ে প্রথম সরব হন হোমের সুপার শ্যামলী সামন্ত মাইতি। বিষয়টি বাড়াবাড়ি জায়গায় পৌঁছে যাওয়ায় গত ১মে তিনি ফুটেজ সহ নিগ্রহের ছবি জেলা সমাজকল্যাণ দপ্তর, ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিট সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জায়গায় ইমেল করেন। তার ভিত্তিতে তদন্তে যান ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার। তিনি সমাজকল্যাণ দপ্তরের জেলা অফিসারকে এনিয়ে রিপোর্ট দেন। জেলাশাসকের কাছেও রিপোর্ট পাঠানো হয়। তারপরই সিদ্ধান্ত হয়েছে, ওই হোমে কোনও শিশু রাখা হবে না। ফান্ড সরবরাহ বন্ধ থাকবে।হোমের ভিতর আবাসিকদের উপর অত্যাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে আনায় গত ৩মে হোম কর্তৃপক্ষ সুপারকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করেন। এর পাল্টা অপসারিত সুপার হোমের সেক্রেটারি সহ মোট ১৬জন কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। ২৩ডিসেম্বর সেই কেসে ময়না থানার পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। ১৬জনের মধ্যে ছ’জনের নাম রেখে চার্জশিট থেকে ১০জনের নাম বাদ দেয় পুলিশ। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ কোর্ট ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসারকে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তমলুকের মহকুমা পুলিশ অফিসার ওই তদন্তে তদারকি করবেন বলেও আদালত নির্দেশ দেয়। আপাতত ঘটনার তদন্তকারী অফিসার হিসেবে একজন ইন্সপেক্টরকে নিয়োগ করা হয়েছে।
হোমের সম্পাদক রঞ্জিত হাজরা বলেন, ওই হোমে ছ’বছর থেকে ১৮বছরের তরুণদের রাখার নিয়ম আছে। কিন্তু, ১৮বছর উত্তীর্ণ এক আবাসিক ছিল। তাকে মারধর করেছিল। মারধরের ঘটনা সমর্থনযোগ্য নয়। অপসারিত সুপার শ্যামলীদেবী বলেন, হোমের ভিতর একাধিক শিশুর উপর অত্যাচার হয়েছে। তার প্রমাণ রয়েছে। হোম কর্তৃপক্ষ শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাইছে। কিন্তু, তাতে কোনও লাভ হবে না।