Bartaman Logo
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ক্যাম্পাসেই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিক্ষোভে উত্তাল পাঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাপক ভাঙচুর, অবরোধ, গুজব বলল কর্তৃপক্ষ

বহিরাগত ব্যক্তি ক্যাম্পাসে ঢুকে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে, এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল পাঞ্জাবের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

ক্যাম্পাসেই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিক্ষোভে উত্তাল পাঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাপক ভাঙচুর, অবরোধ, গুজব বলল কর্তৃপক্ষ
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

জলন্ধর: বহিরাগত ব্যক্তি ক্যাম্পাসে ঢুকে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে, এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল পাঞ্জাবের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। জলন্ধরে অবস্থিত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শনিবার রাতভর দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখায় পড়ুয়ারা। চলে ব্যাপক ভাঙচুর। জানলার কাচ, ফুলের টব ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ক্যাম্পাসে অবস্থিত কয়েকটি দোকানও ভাঙচুরের হাত থেকে রেহাই পায়নি। একটি ভবনে আগুন লাগিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করে পড়ুয়ারা। রবিবার ভোরে আন্দোলনের রেশ এসে পড়ে সংলগ্ন জাতীয় সড়কেও। জলন্ধর থেকে ফাগওয়ারাগামী রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। এর ফলে ওই রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাপক যানজটের জেরে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়নি। পুরোটাই গুজব। ধর্ষণের গুজব শুনেই ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালিয়েছে পড়ুয়াদের একাংশ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ছাত্রীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পড়ুয়াদের বিক্ষোভের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে 

Advertisement

দেখা যাচ্ছে, সেনার সম্মানে ক্যাম্পাসে রাখা একটি মিগ-২৩ যুদ্ধবিমানের উপর উঠে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে এক পড়ুয়া। তার পাশেই সেনার ব্যবহৃত একটি ট্যাংকও রয়েছে। তার 
উপর উঠেও বিক্ষোভ দেখায় জনাদশেক পড়ুয়া।
পড়ুয়াদের অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক নির্মাণকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। ওই ছাত্রী ক্যাম্পাসেই জি-৩ হস্টেলে থাকতেন। ঘটনার পর ওই ছাত্রী বাড়ি ফিরে যান। বিষয়টি ওই হস্টেলের ওয়ার্ডেনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত একটা নাগাদ ছাত্রীদের হস্টেলের সামনে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। তারপর তা গোটা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। কাপুরথালার সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) গৌরব তুরা বলেন, ‘আমরা পৌঁছানোর পর জানতে পারি যে কিছু গুজব ছড়িয়েছিল। তার ফলে পড়ুয়ারা জড়ো হয়। আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের কথা শুনে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ জলন্ধর রেঞ্জের ডিআইজি নবীন সিংলা জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার তদন্ত হবে। এর জন্য সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, ফোন পরীক্ষা করা হবে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদেরও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এর জন্য ফাগওয়ারার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি সিট গঠন করা হচ্ছে।
ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যে সব খবর ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। পুরোটাই গুজব। কয়েকটি অসামাজিক গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য মাধ্যমের সাহায্যে মিথ্যা, ভিত্তিহীন খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই সব প্রচার যেন পড়ুয়া, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষ বিশ্বাস না করেন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ