Bartaman Logo
৩০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পাণ্ডুয়ার মন্দিরে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, ধৃত সেবায়েত ও ১ মহিলা

পাণ্ডুয়ার এক মন্দিরের এক প্রবীণ সেবায়েত তথা পুরোহিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ। ধর্ষণের জেরে জখম নাবালিকাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পাণ্ডুয়ার মন্দিরে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, ধৃত সেবায়েত ও ১ মহিলা
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পাণ্ডুয়ার এক মন্দিরের এক প্রবীণ সেবায়েত তথা পুরোহিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ। ধর্ষণের জেরে জখম নাবালিকাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ নাগরিকরা ওই সেবায়েতকে ধরে শুক্রবার রাতে গণপিটুনি দেয়। শুক্রবার রাতেই নাবালিকার মা পাণ্ডুয়া থানায় অভিযোগও দায়ের করেন। পরে পুলিশ সেবায়েতকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। ধর্ষণে সাহায্য করার অভিযোগে এক মহিলাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দু’জনকেই শনিবার আদালতে হাজির করা হয়। দু’জনকেই জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। মন্দিরের সেবায়েত তথা পুরোহিতের এই কাণ্ডে বিষ্ময় ছড়িয়েছে পাণ্ডুয়ার নাগরিক মহল্লায়। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ৯ তারিখে মন্দিরের ভিতরের একটি ঘরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। তাকে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখতে বলা হয়। কিন্তু নাবালিকার শারীরিক অসুস্থতার কারণে সব ঘটনা প্রকাশ্যে চলে আসে। তারপরেই জনরোষ আছড়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত সেবায়েতের নাম গৌতম রায়। তাঁর সঙ্গী মহিলার নাম রূপালি দাস। ধর্ষিতা নাবালিকার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাবালিকার ডাক্তারি পরীক্ষা সহ যাবতীয় আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
নাবালিকার মা বলেন, আমার মেয়ের উপরে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। তারপরে ওই সেবায়েত ভয় দেখিয়ে মেয়ের মুখ বন্ধ করে রেখেছিল। ওর শরীরে খুব কষ্ট হলেও ও তা গোপন করে রেখেছিল। বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওর ভয়ানক শরীর খারাপ হয়। শুক্রবার আমরা সত্য জানতে পারি। তারপরেই তা বাড়ির অন্যদের এবং প্রতিবেশীদের জানাই। পাশাপাশি, পুলিশের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেছি। আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চা‌ই।  
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাণ্ডুয়ার যে মন্দিরে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি খুবই জনপ্রিয়। নাবালিকাও স্থানীয় বাসিন্দা। বছর এগারোর মেয়েটি প্রায় প্রতিদিনই স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে মন্দিরে ফুল তুলে দেওয়া, কখনও পুজোর বাসন মাজার কাজ করতে যেত। বছর সাতান্নর পুরোহিতের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক ছিল। অভিযোগ, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই গত ৯ আগস্ট মন্দিরের একটি ঘরে ওই সেবায়েত নাবালিকাকে ধর্ষণ করে। অত্যাচারের জেরে নাবালিকা জখম হলেও তাকে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বলেছিল সেবায়েত। জানা গিয়েছে, ধৃত আরেক মহিলাও মন্দিরের কাজ করতেন। তিনি গোটা ঘটনায় সেবায়েতকে সাহায্য করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই পাণ্ডুয়াজুড়ে শোরগোল পড়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ