Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্বভারতীর বিদ্যাভবনের অধ্যক্ষ নিয়োগে ফের অনিয়মের অভিযোগ, সরব অধ্যাপক সংগঠন

বিশ্বভারতীর বিদ্যাভবনের অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়ায় ফের অনিয়মের অভিযোগ উঠল।

বিশ্বভারতীর বিদ্যাভবনের অধ্যক্ষ নিয়োগে ফের অনিয়মের অভিযোগ, সরব অধ্যাপক সংগঠন
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর বিদ্যাভবনের অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়ায় ফের অনিয়মের অভিযোগ উঠল। যোগ্য ব্যক্তিকে সরিয়ে রেখে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নতুন অধ্যক্ষ বেছে নেওয়ার অভিযোগে সরব হয়েছে অধ্যাপক সংগঠন ‘ভিবিইউএফএ’। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে একটি অভিযোগপত্র পাঠিয়েছে সংগঠনের নেতৃত্ব। তাদের দাবি, গোটা প্রক্রিয়াটি সারা হয়েছে চূড়ান্ত গোপনীয়তার সঙ্গে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের প্রথা ও নিয়মের পরিপন্থী। ইতিহাসের অধ্যাপিকা বিপাশা রাহাকে অন্তবর্তী অধ্যক্ষ করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন বিশ্বভারতীর রেজিস্ট্রার। নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ মানতে চায়নি কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

বিতর্কের সূত্রপাত বিদ্যাভবনের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের অবসরকে কেন্দ্র করে। গত ৩১ জানুয়ারি তিনি অবসরগ্রহণ করেন। অধ্যাপক সংগঠনের অভিযোগ, এই শূন্যপদে নতুন নিয়োগের জন্য কোনও প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। এমনকি, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষিকা বা পড়ুয়ারাও এই বদল সম্পর্কে বিন্দুমাত্র অবহিত ছিলেন না। অভিযোগ, গত ৩০জানুয়ারি অপরাহ্নে অত্যন্ত গোপনে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিপাশাদেবীকে ফের অধ্যক্ষ পদে বসানো হয়। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিজ্ঞপ্তির প্রতিলিপি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ই-মেল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করার জন্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু, বাস্তবে আজ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্টালে সেই বিজ্ঞপ্তির দেখা মেলেনি, পৌঁছায়নি কোনও হার্ড কপিও।

যোগ্যতার মাপকাঠিতে ইতিহাসের অধ্যাপিকা বিপাশাদেবীর তুলনায় ইতিহাসের অধ্যাপক সৈয়দ এজাজ হোসেন বা অর্থনীতির অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্যরা উপরের সারিতে রয়েছেন বলে সংগঠেনের দাবি। তা সত্ত্বেও প্রথা ভেঙে কেন এই নিয়োগ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপক ও পড়ুয়া জানিয়েছেন, সুদীপ্ত ভট্টাচার্য অধ্যাপক সংগঠনের নেতৃত্বে থেকে দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সেই ‘অস্বস্তি’ এড়াতেই কি তাঁকে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বঞ্চিত করা হল? সংগঠনের অভিযোগ, স্রেফ ক্ষমতার অপব্যবহার করে পছন্দের ব্যক্তিকে পদে বসাতেই এই ‘গোপন’ নিয়োগের কৌশল নেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক সংগঠনের দাবি, এই অস্বচ্ছ নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করে নিয়ম মেনে যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে হবে। এবিষয়ে বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই নিয়োগ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি। এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ