Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশি জামাই ও নাতিকে ছেলে সাজিয়ে আধার কার্ড তৈরির অভিযোগ

বাংলাদেশি জামাই ও নাতিকে ছেলে সাজিয়ে এ দেশের ভোটার তালিকায় নাম তুলিয়েছেন কেতুগ্রামের বৃদ্ধ। এমনই অভিযোগ করেছে তৃণমূল।

বাংলাদেশি জামাই ও নাতিকে ছেলে সাজিয়ে আধার কার্ড তৈরির অভিযোগ
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: বাংলাদেশি জামাই ও নাতিকে ছেলে সাজিয়ে এ দেশের ভোটার তালিকায় নাম তুলিয়েছেন কেতুগ্রামের বৃদ্ধ। এমনই অভিযোগ করেছে তৃণমূল। বাংলাদেশে তারা শ্বশুর-জামাই-নাতি সম্পর্ক হলেও এ রাজ্যের ভোটার তালিকায় তারা বাবা ও ছেলে। অভিযোগ, ওই দুজন আধার কার্ডও পেয়ে গিয়েছে। কাটোয়া মহকুমায় নাকি টাকা দিলেই পাওয়া যাচ্ছে রেশন থেকে ভোটার কার্ড। সে সব দেখিয়ে আধার কার্ডও হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে এসে ভারতের জাল নথি তৈরি করে নিচ্ছে। তারপর কেউ কেরল, কেউ বা বিদেশ চলে যাচ্ছে। জাল দলিলের পর কাটোয়ায় জাল নথির চক্রও সক্রিয় হয়ে উঠছে। এমনই ধারণা গোয়েন্দাদের। প্রভাবশালীদের দৌলতে সবই তৈরি হয়ে যাচ্ছে নিমেষেই। 

Advertisement

পূর্ব বর্ধমান জেলার ডিএসপি ডিআইবি বীরেন্দ্রকুমার পাঠক বলেন, ২০২৪ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত জাল নথি তৈরির জন্য জেলায় মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করা হয়েছে। ২১টির বেশি জাল জন্ম শংসাপত্র করার জন্য এফআইআর করেছি। গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। আমরা চক্রে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই। 
কাটোয়ায় বরাবরই জাল দলিলের চক্র সক্রিয়। গত বছরে মৃত মানুষকে জ্যান্ত সাজিয়ে জাল দলিল তৈরির অভিযোগ উঠেছিল। সেখানে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড জাল করে অন্যের জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। রেজিস্ট্রির সময়ে ভাড়া করে লোককে সাক্ষী, ক্রেতা সাজাত জমি মাফিয়ারা। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি কাটোয়া থানায় কেতুগ্রামের রসুই গ্রামের এক বাসিন্দা এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তারপরে চক্রের দু’ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল কাটোয়ার গাজিপুর থেকে। এখন আবার কেতুগ্রামের বাংলাদেশি জামাই ও নাতিকে ছেলে সাজিয়ে জাল আধার কার্ড তৈরির অভিযোগ আনছেন খোদ বিধায়ক। তিনি জানান, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট ছাড়াই এদেশে এসে নিজের আধার কার্ড করিয়েছিলেন। এবার তাঁর জামাই ও নাতিকে এনে নিজের ছেলে সাজিয়ে নথি তৈরি করিয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ হয়নি। কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনেওয়াজ বলেন, সীতাহাটি পঞ্চায়েত এলাকায় এক বাসিন্দা এমন কাজ করেছেন। আমরা নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানাব। 
জানা গিয়েছে, কাটোয়ায় জাল নথি তৈরির চক্রও সক্রিয় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই এদেশে এসে কাটোয়ায় তাদের আত্মীয়দের বাড়িতে কয়েকদিন থাকছে। তারপর আত্মীয়দের নথি দিয়ে প্রথমে বাসিন্দা হিসেবে শংসাপত্র নিচ্ছে। তারপর ধীরে ধীরে রেশন, ভোটার, আধার কার্ড করে নিচ্ছে। আত্মীয়দের নিজের বাবা ও মা সাজিয়ে এসব করা হচ্ছে। এই চক্রটি টাকার বিনিময়ে দ্রুত কাজ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। 
কাটোয়ার পানুহাটে এরকম ৬ জন বাংলাদেশির নাম পাওয়া গিয়েছিল। যাদের এখানে খোঁজ মিলছে না। কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্রথমে বাংলাদেশ থেকে মুর্শিদাবাদের টিঁয়া এলাকায় অনেকে আসে। তারপর সেখানে নথি তৈরি করে তারা। তারপর তারা কাটোয়ায় এসে নথি পরিবর্তন করে এখানকার বাসিন্দা দেখায়। আমরা এর আগে এইরকম একটা চক্র ধরেছিলাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ