Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বরাদ্দের সমস্ত টাকাই উন্নয়নের কাজে ব্যয়, দাবি সাঁইথিয়ার বিধায়ক নীলাবতির

ভোটের রণভেরি বাজতেই সাঁইথিয়া কেন্দ্রে পুনরায় বিদায়ী বিধায়ক নীলাবতি সাহার উপরেই আস্থা রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বরাদ্দের সমস্ত টাকাই উন্নয়নের কাজে ব্যয়, দাবি সাঁইথিয়ার বিধায়ক নীলাবতির
  • ২৩ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পিনাকী ধোলে, সাঁইথিয়া: ভোটের রণভেরি বাজতেই সাঁইথিয়া কেন্দ্রে পুনরায় বিদায়ী বিধায়ক নীলাবতি সাহার উপরেই আস্থা রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত পাঁচ বছরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি বাসিন্দাদের প্রত্যাশা কতখানি পূরণ করতে পেরেছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। তবে পরিসংখ্যান এবং এলাকার উন্নয়নের চিত্র বলছে, বাসিন্দাদের প্রত্যাশা পূরণে চেষ্টার কসুর করেননি বিদায়ী বিধায়ক। যদিও বিভিন্ন মৌলিক সমস্যা ও দীর্ঘদিনের একাধিক দাবি আজও তিমিরেই রয়ে গিয়েছে। ‘গণদেবতা’র আশীর্বাদ নিয়ে ফের ক্ষমতায় এলে বাসিন্দাদের সেই দাবি অবশ্য পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিধায়ক।

Advertisement

গত ফেব্রুয়ারিতে জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দকৃত ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার মধ্যে ২ কোটি ১৯ লক্ষ ৫৭ হাজার ৯২১ টাকা ব্যয়ের হিসেব প্রতিফলিত হয়েছে। তবে বিধায়ক নীলাবতির দাবি, এই পরিসংখ্যান কেবল প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার অধীন। বিভিন্ন রূপায়ণকারী সংস্থা কাজ সম্পন্ন করার পর ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ জমা দিলেই তা পোর্টালে দেখানো হয়। বাস্তবে তহবিলের প্রায় সমস্ত অর্থই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁর হাতে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৪২ টাকা। অর্থাৎ, খাতায়-কলমে বরাদ্দের প্রায় সমস্ত অর্থই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করছেন তিনি।
সাফল্যের নিরিখে বিধায়ক গত পাঁচ বছরে বেশকিছু উল্লেখযোগ্য কাজ যোগ করেছেন। বিধায়ক জানান, তাঁর প্রচেষ্টায় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সদিচ্ছায় ১০০শয্যাবিশিষ্ট সাঁইথিয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল বাস্তবায়িত হয়েছে। এর ফলে এলাকার লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হয়েছেন। পাশাপাশি, দীর্ঘদিনের দাবি মেনে আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্র ও অত্যাধুনিক বাসস্ট্যান্ড গড়ে তুলেছেন তিনি। মহম্মদবাজার গ্রামীণ হাসপাতালেও শয্যার সংখ্যা বৃদ্ধির প্রশাসনিক অনুমোদন মিলেছে। বিধায়কের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সাঁইথিয়া পুরসভা ও গ্রামীণ জনপদে নিকাশি ব্যবস্থা এবং সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে, প্রান্তিক মানুষের সব সমস্যার সমাধান হয়নি আজও। যেমন, ময়ূরাক্ষীর দুই শাখার মধ্যবর্তী বেহিরা, ভেজেনা, বড়াম, কাটুনিয়া, নরসিংহপুর, খোদায়বাগান সহ ১২টি গ্রামের বাসিন্দারা বছরের পর বছর ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্ষা এলেই অস্থায়ী রাস্তা জলের তোড়ে ভেসে যায়, আর কয়েক হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। আজও বর্ষাকালে ওই এলাকার মানুষকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো দিন কাটাতে হয়। বিধায়কের অবশ্য দাবি, বাসিন্দাদের অসহায়তার কথা তিনি বিধানসভায় জানিয়েছেন। এনিয়ে মাপজোকও হয়েছে। তাছাড়া, সাঁইথিয়া বিধানসভার অন্তর্গত ছ’টি অঞ্চলকে নিয়ে পৃথক ব্লক গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। প্রশাসনিক দপ্তর আহমদপুরে হওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিধায়কের অবশ্য দাবি, এই দাবি তিনি নিজেই মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন। 
মহম্মদবাজারে একটি কলেজের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা কেবল পরিকল্পনার স্তরেই আটকে রয়েছে। সিউড়ি-২ ব্লকের বক্রেশ্বর নদীর উপর অবিনাশপুর এবং কোমায় সেতুর দাবি আজও পূরণ করতে পারেননি বিধায়ক। যানজটমুক্ত সাঁইথিয়া শহরের স্বপ্নও অধরা। সতীপীঠ নন্দীকেশ্বরী মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নয়ন, সাঁইথিয়া ফেরিঘাটের কাছে ময়ূরাক্ষীর উপর একটি কজওয়েও দাবিও দীর্ঘদিনের। বিধায়ক অবশ্য জানান, কিছু কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। তবে পুনরায় সুযোগ পেলে এই অপূর্ণ কাজগুলিই আগামী দিনে অগ্রাধিকার পাবে। 
বিজেপির জেলা সহ সভাপতি দীপক দাসের কটাক্ষ, উন্নয়নের যে খতিয়ান দেওয়া হচ্ছে তা কার্যত ভাঁওতাবাজি। পাঁচ বছর সময় পেয়েও যিনি সাধারণ মানুষের জন্য ন্যূনতম সেতুর দাবি মেটাতে পারেন না তাঁকে মানুষ আর কেন সুযোগ দেবে? সাঁইথিয়ার মানুষ এবার পরিবর্তন চাইছে। এই ব্যর্থতার জবাব তাঁরা ইভিএমে দেবেন।

সম্পর্কিত সংবাদ