Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সব স্টলে ঝাঁপ বন্ধ, নন্দকুমারে কর্মতীর্থ এখন পুলিসের পার্কিং, বিদ্যুৎবিল বকেয়া, বিচ্ছিন্ন করা হল সংযোগ

বেকার যুবক-যুবতীদের রোজগারের জন্য তৈরি নন্দকুমার কর্মতীর্থের স্টল কব্জা করে নিয়েছেন শাসক দলের কিছু নেতা

সব স্টলে ঝাঁপ বন্ধ, নন্দকুমারে কর্মতীর্থ এখন পুলিসের পার্কিং, বিদ্যুৎবিল বকেয়া, বিচ্ছিন্ন করা হল সংযোগ
  • ১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দকুমার: বেকার যুবক-যুবতীদের রোজগারের জন্য তৈরি নন্দকুমার কর্মতীর্থের স্টল কব্জা করে নিয়েছেন শাসক দলের কিছু নেতা। কিন্তু তিন বছর ধরে স্টলগুলির ঝাঁপ বন্ধ। রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পদপ্তরের প্রায় দু’কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি নন্দকুমার থানা সংলগ্ন ওই কর্মতীর্থ এখন পুলিসের গাড়ি রাখার জায়গা। রোদ-জলের হাত থেকে বাঁচতে পুলিসের চারচাকা ‌এবং বাইক কর্মতীর্থের শেডের তলায় রাখা হচ্ছে। ২০২২ সালে উদ্বোধনের পর থেকে আজও ইলেক্ট্রিক বিল বাবদ কানাকড়ি পেমেন্ট করা হয়নি। যেকারণে বণ্টন সংস্থা সেখানকার বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নেতা-নেত্রীর কব্জা থেকে ওই স্টল নিয়ে প্রকৃত আগ্রহীদের হাতে তুলে দেওয়া হোক।

Advertisement

২০২২ সালে হলদিয়া-কোলাঘাট জাতীয় সড়ক সংলগ্ন নন্দকুমারে ওই কর্মতীর্থের উদ্বোধন হয়। দু’কোটি টাকা খরচে ৩২টি স্টল তৈরি হয়। বিনা পয়সায় ওইসব স্টল বিতরণ করা হয়। স্টল পেতে প্রচুর আবেদন পড়েছিল। প্রশাসনিকভাবে একটি কমিটি গড়ে আবেদনকারীদের ইন্টারভিউ নিয়ে স্টল দেওয়া হয়েছিল। নন্দকুমার থেকে নির্বাচিত পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সদস্যা অনুপমা বাইচার, নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির গত টার্মের বিদ্যুৎ ও ক্ষুদ্রশিল্প স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ নিখিল মাজি, চকশিমুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গত টার্মের সদস্য দেবরঞ্জন অধিকারী সহ অনেক নেতানেত্রী নিজে এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য স্টল নিয়েছেন। 
বেকার যুবক-যুবতীদের রোজগারের লক্ষ্যে রাজ্যে প্রতিটি ব্লকে একটি করে কর্মতীর্থ গড়ে তোলা হয়। কিন্তু, নন্দকুমারের ওই কর্মতীর্থ বাজার থেকে দূরে হওয়ার কারণে লোকজনের আনাগোনা কম। কর্মতীর্থ উদ্বোধনের পর সেখানেই নতুন থানা চালু হলেও ছবিটা বদলায়নি। এদিকে স্টল নিয়েও ফেলে রেখে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এনিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স্টল প্রাপকদের ইলেক্ট্রিক বিল পেমেন্ট করতে হয়। কিন্তু, তাঁরা শুরু থেকেই ওই টাকা দেননি। তাই বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা সেখানকার লাইন কেটে দিয়েছে।
এই মুহূর্তে ৩২টি স্টলের মধ্যে একমাত্র তপন মাইতি নামে একজন নিজের স্টলটি দিনেরবেলায় মাঝেমধ্যে খোলেন। সেখানে ল’ক্লার্ক স্বপনকুমার পড়্যা বসে এফআইআর লেখেন। বৃহস্পতিবার ওই কর্মতীর্থে গিয়ে দেখা যায়, শেডের তলায় পরপর থানার গাড়ি রাখা আছে। স্টলের গেটে ধুলোবালির আস্তরণ পড়ে গিয়েছে। সরকারি দু’কোটি টাকার সম্পদ পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, পাওয়ার পর কেউ চালু না করলে তাঁর কাছ থেকে স্টলের দখল কেড়ে নিয়ে অন্যকে দেওয়া যায়। কিন্তু, প্রশাসন সেই কাজও করছে না।
এনিয়ে দেবরঞ্জনবাবু বলেন, ইলেক্ট্রিক কানেকশন না থাকায় স্টল খুলতে পারছি না। প্রাক্তন বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ বলেন, বিল্ডিংয়ের উপর পানীয় জলের ট্যাঙ্ক ফুটো ছিল। এর ফলে জলের সমস্যা তৈরি হয়। হস্তান্তরের সময় ইলেক্ট্রিক বিল বাবদ মোট ১লক্ষ ৪০হাজার টাকা বকেয়া থাকায় জটিলতা তৈরি হয়। লাইন কেটে যাওয়ার পর থেকেই সমস্যা তৈরি হয়। জেলা শিল্পকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার সুব্রত দাস বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। এনিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ