সংবাদদাতা, সিউড়ি: জেলায় অবৈধ বালি পাচারের অভিযোগ নতুন নয়। বিষয়টি নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। জেলায় অবৈধ বালি উত্তোলন ও পাচার রুখতে বার্তা দিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে জেলায় বালি পাচার রুখতে কড়া হল জেলা পুলিশ। যে সমস্ত এলাকায় বালিঘাট রয়েছে, সেখানে নিয়মিত পরিদর্শনে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন জেলা পুলিশ সুপার। ইতিমধ্যেই জেলাজুড়ে সেই কাজ হচ্ছে বলে দাবি জেলা পুলিশের শীর্ষকর্তাদের। অবৈধ বালি উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ তুলে জেলায় এলাকাবাসীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেনে, কোথাও ওভারলোডেড বালির গাড়ি চলাচল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। এমনকী তিলপাড়া ব্যারেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পিছনেও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালি উত্তোলনই দায়ী বলে অভিযোগ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির গত বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জেলায় অবৈধ বালি উত্তোলন নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। মাসখানেক আগে বোলপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় এই বালির প্রসঙ্গ উঠেছিল। এরপরেই জেলাজুড়ে অবৈধ বালি উত্তোলন ও বালি পাচার নিয়ে ধড়পাকড় শুরু হয়। ময়দানে নামতে দেখা যায় তৎকালীন জেলাশাসককে। তিনি নিজে একাধিক অবৈধ খাদান, বালির স্টক পয়েন্টে হানা দেন। একইভাবে জেলাজুড়ে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৮ নভেম্বর জেলা পুলিশের ক্রাইম কনফারেন্সে সুপার প্রত্যেক থানার ওসি, আইসি এবং আধিকারিকদের নিয়মিত বালিঘাট পরিদর্শন, আচমকা হানা দেওয়া, অবৈধ বালি উত্তোলন কিম্বা ওভারলোড গাড়ি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সমস্ত এলাকায় বালিঘাট রয়েছে, সেখানে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। এছাড়া যে এলাকায় অবৈধ বালি কারবারের অভিযোগ আগে উঠেছে, কিংবা আগে যে সমস্ত এলাকায় হানা দিয়ে উদ্ধার হয়েছে, সেই সমস্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, পুলিশের সুপারের নির্দেশের পরেই পুলিশ ও স্থানীয় ব্লক প্রশাসন নিয়মিত বালিঘাটগুলিতে পরিদর্শন করছে। দরকারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করা হচ্ছে। অবৈধ বালি কারবার একাশো শতাংশ রুখতে সব রকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান করছে। এই ধরনের অভিযান এখন নিয়মিত চলবে।



