নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ২০২২ সালে হাঁসখালিতে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও প্রমাণ লোপাটের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল রানাঘাটের এডিজে আদালত। দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার আদালত এই ঘটনায় অভিযুক্ত মোট ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ মঙ্গলবার দোষীদের সাজা ঘোষণা করা হবে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায়। অভিযোগ, এক জন্মদিনের পার্টিতে নিমন্ত্রিত নাবালিকাকে গণধর্ষণ করা হয়। সেই রাতেই মৃত্যু হয় ১৪ বছরের ওই কিশোরীর। অভিযুক্তরা নাবালিকার বাবা-মাকে হুমকি দিয়ে মৃতদেহ তুলে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করে। ঘটনার চার দিন পর, ৯ এপ্রিল হাঁসখালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতার পরিবার।
তদন্তের শুরুতেই ১০ এপ্রিল রাতে রাজ্য পুলিশ মূল অভিযুক্ত সোহেল গয়ালিকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার বাড়িতেই জন্মদিনের পার্টিতে গণধর্ষিতা হয় ওই নাবালিকা। ১৩ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিবিআই। তদন্তের শেষ পর্যায়ে ২৯ এপ্রিল সিবিআই গ্রেপ্তার করে সোহেল গয়ালির বাবা সমরেন্দ্র গয়ালি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ পীযূষকান্তি ভক্তকে। এছাড়াও ১৫ মে হাঁসখালি থানার একাধিক আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই মামলায় মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে একজন নাবালক। সিবিআই ৭ জনকে এবং রাজ্য পুলিশ ২ জনকে গ্রেফতার করেছিল।
আদালতের রায় অনুযায়ী, সোহেল গয়ালি, প্রভাকর পোদ্দার ও রঞ্জিত মল্লিক— ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি, ৩৪, ২০১, ৫০৬, ৩০৪ (২), ৩৭৬ ডিএ ধারার পাশাপাশি পকসো আইনের ৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এছাড়া সুরজিৎ রায় ও আকাশ বাড়ৈ— আইপিসির ১২০বি, ৩৪ ও ৫০৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, সমরেন্দ্র গয়ালি, দীপ্ত গয়ালি ও পীযূষকান্তি ভক্ত—আইপিসির ৫০৬, ২০১, ১২০বি ও ৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এছাড়াও অংশুমান বাগচী— আইপিসির ১২০বি, ৩৪ ও ২০১ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।