সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ারের ছ’টি ব্লকের একাধিক নদীতে বেশকিছু জায়গা এখনও অরক্ষিত। ভারী বৃষ্টিতে নদীগুলি ফুলেফেঁপে উঠলে সংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। যদিও জেলা পরিষদ ও সেচদপ্তরের দাবি, অরক্ষিত এলাকাগুলিতে বাঁধের জন্য রাজ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এলাকাগুলি নিয়মিত পরিদর্শনও করা হচ্ছে।
সেচদপ্তরের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার কেশবচন্দ্র রায় বলেন, জেলার অনেক নদীতেই অরক্ষিত এলাকা আছে। সব জায়গাতেই যাতে বাঁধ করা যায়, তার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই কিছু জায়গা চিহ্নিত করে রাজ্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হলেই কাজ শুরু হবে।
আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পাঁচকোলগুড়িতে কুরমাই নদীর একাংশ অরক্ষিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভারী বৃষ্টি হলে কুরমাইয়ের জলে ভাসবে পাঁচকোলগুড়ি। ওই ব্লকের পাতলাখাওয়ায় তোর্সা নদী বাঁধের পিচিং দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে ওই বাঁধও মেরামত করা দরকার। একইভাবে আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের পশ্চিম বগড়িবাড়ি মৌজায় গদাধর নদী অরক্ষিত অবস্থায় আছে। একটানা বৃষ্টি হলে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে গদাধর। তখন অরক্ষিত এলাকা দিয়ে গদাধরের জল ঢুকতে পারে সংলগ্ন বাড়িগুলিতে। প্লাবিত হতে পারে এলাকার কৃষিজমি।
আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের ভাটিবাড়িতে অরক্ষিত হাঁড়িভাঙা নদী। এখানেও দীর্ঘদিন ধরে বাঁধের দাবি উঠছে। কুমারগ্রামের তুরতুরিখণ্ড এলাকায় ধোঁকসা নদীবাঁধের জিও সিন্থেটিক ব্যাগ জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। ফলে জলের তোড়ে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শালকুমার-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে শিসামারা নদীবাঁধের একটা অংশে এখনও বোল্ডার বাঁধের কাজ হয়নি। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন শিসামারার ওই অংশে বোল্ডার বাঁধের জন্য অবশ্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। সেচদপ্তর জানিয়েছে, দুর্গাপুজোর পরেই কাজ শুরু হতে পারে।
আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের কৃষি, সেচ ও সমবায় স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ অনুপ দাস বলেন, জেলার একাধিক নদীর অরক্ষিত এলাকাগুলি নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। জেলার নদীগুলি ভুটান থেকে নেমে এসেছে। সেখান থেকে নদীগুলি নুড়ি, ডলোমাইট বয়ে আনছে। তার জন্যই নদীবক্ষ ভরাট হচ্ছে। নদীগুলির অরক্ষিত এলাকায় বাঁধের জন্য সেচমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ফাইল চিত্র।