সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ঘণ্টার পর ঘণ্টা আউটডোরের লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা পরিষেবা নেওয়া কস্টসাধ্য প্রবীণদের। সেই কথা মাথায় রেখে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র প্রবীণ নাগরিকদের জন্য তিন মাস আগে প্রতি মাসের চতুর্থ শনিবার করে বিশেষ আউটডোরের ব্যবস্থা করেছিল। জেলা হাসপাতালে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য চালু হওয়া এই আউটডোর পরিষেবা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ভিড় উপচে পড়েছে প্রবীণদের জন্য চালু হওয়া আউটডোরে।
আলিপুরদুয়ার তো বটেই কোচবিহার জেলা থেকেও গাড়িতে করে আসছেন প্রবীণরা। শনিবারের আউটডোরে রেকর্ড সংখ্যক ৪৬ জন প্রবীণ নাগরিক চিকিৎসা পরিষেবা নিতে এসেছেন। এদিন কোচবিহারের গোসানিমারি থেকে ছ’জন অশীতিপর প্রবীণ নাগরিক আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন।
প্রবীণদের আউটডোরে ভিড় উপচে পড়ায় খুশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাই জেলা হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতি আগামী মাস থেকে একবার নয় দু’বার করে প্রবীণদের আউটডোর পরিষেবা চালুর ভাবনা করছে। অর্থাৎ এবার থেকে প্রতি মাসের প্রথম ও শেষ শনিবার প্রবীণদের জন্য এই আউটডোর পরিষেবার চালুর প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে।
শনিবার হাসপাতালের পরিকাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়ন খতিয়ে দেখার পর এই প্রস্তাবের কথা বলেন জেলা হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল। সুমন বলেন, প্রবীণ মানুষদের লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে কষ্ট হয়। সেজন্য প্রতি মাসে একদিন মাসের চতুর্থ শনিবার করে শুধুমাত্র প্রবীণদের জন্য আলাদা আউটডোর খোলা হয়েছে। সেখানে একটি আউটডোরে সব ধরনের প্রবীণ নাগরিকরা চিকিৎসা পরিষেবা নিতে পারছেন। আমরা আনন্দিত যে উদ্যোগ সফল হয়েছে। জনপ্রিয় হচ্ছে উদ্যোগটি। এদিন কোচবিহার থেকেও কয়েকজন প্রবীণ নাগরিকরা এসেছেন। জনপ্রিয় হওয়াতেই আগামী দিনে প্রতি মাসে দু’দিন করে এই আউটডোর চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি মাসের প্রথম ও শেষ শনিবার করে প্রবীণ নাগরিকদের আউটডোর পরিষেবা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
হাসপাতালের সুপার পরিতোষ মণ্ডল বলেন, প্রবীণ নাগরিকদের আউটডোরে প্রতি শনিবারই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শনিবার ৪৬ জন রোগী পরিষেবা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কোচবিহারের ছ’জন ছিল। জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে সুমন কাঞ্জিলাল। - নিজস্ব চিত্র।