Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালীগঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী আলিফার শক্তি মমতার প্রকল্প ও সহানুভূতির হাওয়া

জয়ের এই বিশাল মার্জিন প্রমাণ করেছিল যে, এক সময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি এখন ঘাসফুলের মজবুত দুর্গে পরিণত হয়েছে

কালীগঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী আলিফার  শক্তি মমতার প্রকল্প ও সহানুভূতির হাওয়া
  • ৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: একুশের নির্বাচনে কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা নাসিরুদ্দিন আহমেদ বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল প্রায় ৪৭ হাজার।  জয়ের এই বিশাল মার্জিন প্রমাণ করেছিল যে, এক সময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি এখন ঘাসফুলের মজবুত দুর্গে পরিণত হয়েছে। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্রে মুখে হাসি ফুটেছিল ঘাসফুল শিবিরের।‌ তবে বিধায়কের অকালপ্রয়াণে শূন্য হয়ে যাওয়া এই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে তাঁরই কন্যা আলিফা আহমেদকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এ লড়াই শুধুমাত্র বিরোধীদের পরাজিত করার নয়। বাবার জয়ের ব্যবধানকে ছাপিয়ে যাওয়াই বড়ো চ্যালেঞ্জ ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থীর। বাবার স্মৃতি ও জনভিত্তিকে সঙ্গে নিয়ে বিধায়ক কন্যা এবার নামছেন সেই উত্তরাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে। যদিও জয়ের ব্যবধানের অতীতের সমস্ত রেকর্ডকে ভেঙে দেওয়া নিয়ে আশাবাদী ঘাসফুল শিবির। ভোটযুদ্ধের সমীকরণে অনুঘটকের কাজ করবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনকল্যাণমূলক পরিষেবা এবং সহানুভূতির ভোট। নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ বিধানসভা আসনটি বামেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত ছিল। যদিও বিগত এক দশকে বাম ভোট স্যুইং করায় বর্তমানে এই কেন্দ্রে বিজেপি দ্বিতীয় শক্তিশালী। ২০১১ সালে বিজেপির ৮ শতাংশ ভোট ২০২১ সালে ৩১ শতাংশে এসে পৌঁছয়।‌ তবে অতীতে একাধিকবার ফ্রন্ট-শরিক আরএসপি-র প্রার্থী বিধায়ক হয়েছেন এই কেন্দ্রে থেকে।  ২০১১ সালে রাজ্যজুড়ে পালাবদলের হাওয়ায় প্রথমবার নাসিরুদ্দিন আহমেদের (লাল) হাত ধরেই ঘাসফুল ফোটে কালীগঞ্জে।‌ ২০১৬ সালে এই আসনটি দখল করে বাম-কংগ্রেস।‌ ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী নাসিরুদ্দিন আহমেদ ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। বর্তমান কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রটি তৃণমূলের ‘নিশ্চিত’ আসন হিসেবেই ধরে রাজনৈতিক মহল। সেই কেন্দ্রের উপনির্বাচনই এখন প্রেস্টিজ ফাইটে পরিণত হয়েছে লাল-কন্যা তথা কর্পোরেট দুনিয়ার আলিফা আহমেদের কাছে। যদিও রাজনীতির ময়দানে একবারে আনকোরা নন তিনি। রাজনীতিতে সেভাবে সক্রিয় না হলেও ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কালীগঞ্জ থেকে নদীয়া জেলা পরিষদের তৃণমূলের সদস্যা ছিলেন। এবার কলকাতার কর্পোরেট হাউসের ঠান্ডা রুম থেকে বেরিয়ে এসে বাবার দেখানো মেঠোপথ ধরেই হাঁটতে চলেছেন তিনি। প্রয়াত বিধায়কের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করার বার্তা নিয়ে, ভোট প্রচারে বেরিয়ে গ্রামের মানুষের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, বাবা কালীগঞ্জের মানুষের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তাঁর দেখানো পথেই আমি চলছি। মানুষ যেভাবে ভালোবেসে আপন করে নিচ্ছেন, তা আমাকে আবেগতাড়িত করছে। পাশাপাশি জয় নিয়েও আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। এখন শুধু একটাই লক্ষ্য, বিপুল মার্জিনে জিতে এই আসনটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে পুনরায় তুলে দেওয়া। 

Advertisement

গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে ৬৪ হাজার ভোট পেয়েছিল বিজেপি। এবার সেই ভোটকে ছাপিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য বিজেপি প্রার্থী আশিস গড়াইয়ের। কালীগঞ্জ ব্লকের দেবগ্রাম পঞ্চায়েতের চারবারের বিজেপি সদস্য, বর্তমানে ওই বিধানসভার কনভেনর পদেও রয়েছেন। তিনি বলেন, লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় উপনির্বাচনে বিজেপির ভোট বাড়বে। তৃণমূলের তোলাবাজি, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, মারামারির কারণে মানুষ ওদের উপর ক্ষুব্ধ।
অন্যদিকে, কালীগঞ্জ বিধানসভার কংগ্রেস দলের বহু পুরনো সদস্য কাবিলউদ্দিন শেখকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি ১৯৯২ সালে নদীয়া জেলা ছাত্র পরিষদের সভাপতি, ১৯৯৪ সালে নদীয়া জেলার যুব কংগ্রেসের সভাপতি, ২০১৮ সালে জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা প্রদেশ কংগ্রেসের সদস্য এবং ২০২০ সালে জেলা কংগ্রেসের সহ-সভাপতি হন। তিনি বলেন, মানুষ এই উপনির্বাচনে তৃণমূল অপশাসনকে সমূলে উপড়ে ফেলবেন। গত লোকসভাতে বাম-কংগ্রেস ভালো ভোট পেয়েছিল। এবারেও তার ব্যতিক্রম হবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ