Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সন্ধ্যা নামলেই বসে মদের আসর, বন্ধের মুখে গলসির এমএসকে

স্কুলের শুরুতে পড়ুয়া সংখ্যা ছিল দু’শোরও বেশি। কিন্তু, এখন তা কমতে কমতে মাত্র ছয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের পড়ানোর জন্য আছেন মাত্র একজন শিক্ষক।

সন্ধ্যা নামলেই বসে মদের আসর, বন্ধের মুখে গলসির এমএসকে
  • ১৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: স্কুলের শুরুতে পড়ুয়া সংখ্যা ছিল দু’শোরও বেশি। কিন্তু, এখন তা কমতে কমতে মাত্র ছয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের পড়ানোর জন্য আছেন মাত্র একজন শিক্ষক। অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলে নেই কোনও পরিকাঠামো। লেখাপড়ার মানও ভালো নয়। এই দুইয়ের জেরে গলসি-২ ব্লকের গোহগ্রামের ভুবনমোহন মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র বা এমএসকের এমন করুণ অবস্থা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মূলত শিক্ষকের অভাবেই পড়ুয়ারা এই স্কুল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। স্থায়ী শিক্ষক না পেলে যোকোনও দিন তালা পড়ে যাবে এই শিক্ষা কেন্দ্রে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৩ সালে এই এমএসকের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল।   এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটবে আশায় স্থানীয় কয়েকজন প্রায় সাড়ে পাঁচ বিঘা জমি দান করেছিলেন। সেই জমিতেই গড়ে ওঠে ভবন, খেলার মাঠ, শৌচাগার। কিন্তু, পড়ুয়া সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকায় এই শিক্ষাকেন্দ্র অচল হয়ে পড়েছে। কেন এই অবস্থা হল? শিক্ষা কেন্দ্রের একমাত্র শিক্ষক রামানন্দ মুখোপাধ্যায় বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে একমাত্র আমি রয়েছি। তখনও ২০-২৫জন পড়ুয়া ছিল। বর্তমানে তা মাত্র ছ’জনে দাঁড়িয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে নতুন করে কেউ ভর্তি হয়নি। শিক্ষক বাড়ালে পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছি।   

Advertisement

ওই শিক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, এখন খুদে পড়ুয়াদের কোনও কোলাহল নেই। ফাঁকা প্রাঙ্গণে গোরু, ছাগল চরে বেড়াচ্ছে। অনেকে মাঠ থেকে ফসল কাটার পর তা স্কুল চত্বরেই ডাঁই করে রেখেছেন। এমনকী, মদের বোতলও পড়ে রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, রাতে স্কুল চত্বরে বসছে মদের আসর। অসামাজিক কাজকর্মও চলছে। আর এক বাসিন্দা রঞ্জিত রায় বলেন, প্রায় সাত বছর ধরে স্কুলের এই বেহাল অবস্থা হয়েছে। আমরা চাই আরও শিক্ষক নিয়োগ হোক। এভাবে চললে কোনওদিন শিক্ষা কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাবে। গ্রামের গরিব পরিবারের ছেলেমেয়েদের বাইরে পড়ানোর সামর্থ্য নেই।  গোহগ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কানন মাজি বলেন, এই শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকরা ধীরে ধীরে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন একজন মাত্র শিক্ষক রয়েছেন। আমরা বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েছি যাতে স্কুলটি ভালোভাবে চলে।  গলসি পশ্চিম চক্রের এসআই দেবকুমার ভক্ত বলেন, এখন নতুন শিক্ষক নিয়োগের কোনও সম্ভাবনা নেই। ফলে ওই শিক্ষা কেন্দ্রটি আগামীতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গোহগ্রামে দু’টি এসএসকে বর্তমান শিক্ষাবর্ষ থেকেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ওখানকার পড়ুয়াদের অন্যত্র ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ