নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সারের কালোবাজারি বন্ধ করতে কড়া নবান্ন। প্রতিটি জেলার কৃষিদপ্তরের আধিকারিকদের নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্লকের কৃষি আধিকারিকদের সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে জেলার কর্তাদের আলোচনা করতে বলা হয়েছে। গোডাউন ও দোকানগুলিতে লাগাতার অভিযান চালানোর বার্তা এসেছে নবান্ন থেকে। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর আলু চাষের মরশুমে ১০:২৬:২৬ সারের চাহিদা বেড়ে যায়। একশ্রেণির ব্যবসায়ী সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। এমআরপির চেয়ে বেশি দামে তারা সার বিক্রি করে বলে অভিযোগ। অনেকে দাম ঠিক নিলেও ‘ট্যাগ’ বা অণুখাদ্য নিতে বাধ্য করে। ওই অণুখাদ্যের খুব বেশি প্রয়োজন না হওয়া সত্ত্বেও চাষিরা নিতে বাধ্য হন। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, এমআরপির থেকে বেশি দাম নেওয়া যাবে না। কেউ কালোবাজারি করার চেষ্টা করলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Advertisement
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আলু চাষের জন্য কৃষকরা আগে থেকেই ১০:২৬:২৬ সার কিনতে শুরু করেছে। মেমারির একটি সমবায় সমিতি চাষিদের সারের সঙ্গে ট্যাগ নিতে বাধ্য করছিল। প্রশাসন অভিযোগ পাওয়ার পরই সমবায় সমিতিকে শোকজ করে। এরকম আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীকে শোকজ করা হয়। আধিকারিকদের দাবি, ১০:২৬:২৬ সার জেলায় যথেষ্ট পরিমাণ মজুত রয়েছে। তারপরও কোনও কোনও ব্যবসায়ী কৃত্রিম সঙ্কট দেখানোর চেষ্টা করছে। সারের জন্য চাষিরা যাতে সমস্যায় না পড়েন তারজন্য রাজ্য সরকার আগে থেকে পদক্ষেপ নেয়। কেন্দ্রীয় সরকারকে চাপ দিয়ে পর্যাপ্ত সার পাঠাতে বাধ্য করে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, কোথাও সারের দাম বেশি নেওয়া হলে চাষিরা সরাসরি অভিযোগ করতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। চাষিরা বলেন, কয়েক বছরে সারের দাম অনেকে বেড়েছে। তারপর এমআরপির থেকে বেশি দাম নেওয়া হলে কৃষকদের দুর্দশার শেষ থাকবে না। এছাড়া জোর করে ট্যাগ বিক্রির বিষয়টি দেখা দরকার। প্রয়োজন না থাকলেও চাষিদের জোর করে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। শক্তিগড় এলাকার আলু চাষি সূর্য দাস বলেন, আলু চাষের খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে। অথচ আমরা দাম পাই না। মাঠে অল্প দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হই। সারের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে চাষিদের ততটা সমস্যায় পড়তে হবে না। দু’বছর ধরে আলু চাষের মরশুমে বৃষ্টি হচ্ছে। গত বছরও অতিবৃষ্টিতে বহু জমির আলু নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বেশি খরচ করে দু’বার আলু চাষ করতে হয়েছিল। গত বছর সারের কালোবাজারি বন্ধ করা যায়নি। এবার প্রশাসন প্রথম থেকেই সক্রিয় হওয়ায় চাষিরা আশায় বুক বেঁধেছেন। বিশেষ করে নবান্নের নজরদারি থাকায় এবার দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে তাঁরা মনে করছেন।



