Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রভাবশালীদের টাকা পৌঁছে দিত আক্রাম

নিউটাউনে এসটিএফের হাতে নগদ পাঁচ কোটি টাকা সহ গ্রেফতারের ঘটনার পর থেকেই রাতারাতি চর্চায় চলে এসেছে সিউড়ির বাসিন্দা আক্রাম খানের নাম।

প্রভাবশালীদের টাকা পৌঁছে দিত আক্রাম
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: নিউটাউনে এসটিএফের হাতে নগদ পাঁচ কোটি টাকা সহ গ্রেফতারের ঘটনার পর থেকেই রাতারাতি চর্চায় চলে এসেছে সিউড়ির বাসিন্দা আক্রাম খানের নাম। পাড়ার মাচা থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, সর্বত্রই একটাই প্রশ্ন, কে এই আক্রাম? এবিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন পুলিশ-প্রশাসন থেকে জেলার শাসক-বিরোধীরাও।  

Advertisement

জানা গিয়েছে, বীরভূম জেলার পাথর কারবারের ‘মুকুটহীন সম্রাটে’র কার্যত ডান হাত আক্রাম। সিউড়ি শহরের ১৫নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আক্রাম শিক্ষিত। ফলে, কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মালিকের অত্যন্ত স্নেহভাজনও হয়ে ওঠে সে। মালিকের আশীর্বাদের হাত মাথায় নিয়েই বীরভূমের পাথর কারবারের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। বীরভূমের পাথর বলয়ে ডিসিআরের নামে সরকারকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যে তোলাবাজির কারবার চলে তা দেখাশোনা করে আক্রাম। পাথর কারবারের কোটি কোটি লেনদেন সবটাই হয় নগদে। সেইসব টাকা নিরাপদ ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব এই আক্রামেরই। কোন ‘দেবতা’কে কোন ফুলে তুষ্ট করতে হবে তা বুঝে নিত সে। পাথর ব্যবসায়ীদের একাংশের কথায়, এই কারবার চালানোয় মালিকের শুধু আস্থাভাজন নয়, অন্যতম পরামর্শদাতাও হয়ে উঠেছিল আক্রাম। বিপুল টাকা খরচ করে আক্রামের বিয়ে হয়। তখনও সমস্ত আয়োজনের হোতা ছিল তার মালিকই। বিলাসিতা দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয়েছিল প্রতিবেশীদের। 
তবে সবার মনে যে প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে, পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে আক্রাম কলকাতায় কী করতে গিয়েছিল? তাকে ধরলই বা কেন এসটিএফ? ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, কোটি কোটি টাকার পাথর লুটের এই কারবারের জাল যেভাবে প্রশাসন থেকে শাসক-বিরোধীকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে, তাতে এটা হওয়ার কথা নয়। এক পাথর ব্যবসায়ীর কথায়, মনে হয় সেই সুতোর ঠাস বুননে কোথাও সামান্য ছেদ ছিল। তবে এনিয়ে বেশিদিন চর্চা হবে না বলেই মত পাথর কারবারিদের। এক পাথর কারবারির দাবি, যার মালিকের বছরে কামাই কয়েকশো কোটি টাকা তার পক্ষে এসব ম্যানেজ করা কি খুব কঠিন? ওই কারবারি মনে করিয়ে দিচ্ছেন, একসময় গোরু ও কয়লা পাচার মামলাতেও ওই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। ব্যবসায়ীর পাথর খাদান, অফিস থেকে শুরু করে একাধিক বাড়িতে তল্লাশিও হয়েছিল। কিন্তু তারপর আর তদন্ত এগোয়নি।
ওই পাঁচ কোটি টাকা কোথায় যাচ্ছিল তা নিয়ে আরও এক তত্ত্ব উঠে আসছে। তিলপাড়া ব্যারেজ ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই ট্রাক মালিক ও পাথর ব্যবসায়ীরা নিজেদের টাকা খরচ করেই নদীবক্ষে কজওয়ে তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। এনিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই প্রশাসন তা স্থগিত করে দেয়। তবে, এর ফলে ঘুরপথে কারবার চালাতে গিয়ে মন্দার মুখে পড়তে হচ্ছে কারবারিদের। তাই যেনতেন প্রকারে কজওয়ে করতে মরিয়া তারা। সেই কাজ শুরু করতে লাগবে কোনও বড় মাথার সুপারিশ। সেই সুপারিশের জন্যই কি যাচ্ছিল বিপুল কাঁচা টাকা? চর্চা চলছেই। 
আক্রামের গ্রেফতারির আগেরদিন থেকেই পাথরের ডিসিআরের চার্জ টন পিছু ৫০টাকা করে বেড়ে গিয়েছে। ডিসিআর থেকে জেলায় প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা আদায় হবে। কজওয়ে তৈরির জন্য বড়কর্তাদের তুষ্ট করতে যে খরচ হবে তা পুষিয়ে নিতেই কি ডিসিআরের দর বৃদ্ধি? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
 আক্রাম খান।-ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ