মুম্বই: জমি দুর্নীতি মামলায় বড়োসড়ো স্বস্তি পেলেন মহারাষ্ট্রের প্রয়াত উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের ছেলে পার্থ পাওয়ার। পুনের ৪০ একর সরকারি জমি বিক্রি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আঙুল উঠেছিল। তা নিয়ে প্রাক্তন আইএএস আধিকারিকের নেতৃত্বে তদন্তের নির্দেশ দেয় মহারাষ্ট্র সরকার। সম্প্রতি সেই রিপোর্ট জমা পড়েছে রাজ্যের রাজস্বমন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলের কাছে। সূত্রের খবর, পার্থকে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে তদন্ত কমিটি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, জমি বিক্রির সঙ্গে পার্থর কোনো যোগ নেই। তবে এই জমি দুর্নীতিতে যুক্ত দুই সরকারি আধিকারিক শীতল তেজস্বিনী ও রবীন্দ্র তারুর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর এনসিপির হাল ধরেছেন তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা। তিনি এখন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পার্থই ভবিষ্যতে দলের কাণ্ডারী। তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হতে পারে বলেও খবর।
পার্থ যে জমি দুর্নীতি মামলায় ছাড়পত্র পেতে চলেছেন, সে খবর চাউর হয়ে যায় গত সপ্তাহেই। বিতর্ক দেখা দেওয়ায় মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে জানান, তিনি রিপোর্ট হাতে পাননি। পুনের ৪০ একর সরকারি জমির বিক্রি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ওই জমি মাত্র ৩০০ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয় পার্থর সংস্থাকে। বিতর্কের এখানেই শেষ নয়, ওই জমি বিক্রির জন্য ২১ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ডিউটি জমা দেওয়ার কথা। সেখানে মাত্র ৫০০ টাকার স্ট্যাম্প ডিউটি জমা দেওয়া হয়েছে। গরমিল হয়েছে বুঝতে পেরে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অভিযুক্ত সংস্থা আমেদিয়া এন্টারপ্রাইজেশ এলএলপিকে নির্ধারিত স্ট্যাম্প ডিউটি জমা দিতে নোটিস জারি করে মহারাষ্ট্র রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট। ওই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছে ওই সংস্থা। তবে দুই সরকারি আধিকারিক শীতল তেজস্বিনী ও রবীন্দ্র তারুর বিরুদ্ধে অভিযোগের সারবত্তা খুঁজে পেয়েছে কমিটি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকারি জমি জেনেও পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে শীতল জমি বিক্রির তদারকি করেছিলেন। আর সেই বিক্রির ছাড়পত্র দিয়েছিলেন সাব রেজিস্টার রবীন্দ্র তারু।