Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাঁচ মাসেই কেতুগ্রামে অজয়ের বাঁধে ধস! আতঙ্কে বাসিন্দারা

কেতুগ্রামের চরখি গ্রামে পাঁচ মাস আগে অজয়ের বাঁধ সংস্কার করে সেচ দপ্তর। কোটি টাকা খরচ করে বাঁধের ধারে পাথর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ মাস বাদেই চরখি ধর্মরাজতলার কাছে বড়সড় ধস নামে বাঁধে।

পাঁচ মাসেই কেতুগ্রামে অজয়ের বাঁধে ধস! আতঙ্কে বাসিন্দারা
  • ৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কেতুগ্রামের চরখি গ্রামে পাঁচ মাস আগে অজয়ের বাঁধ সংস্কার করে সেচ দপ্তর। কোটি টাকা খরচ করে বাঁধের ধারে পাথর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ মাস বাদেই চরখি ধর্মরাজতলার কাছে বড়সড় ধস নামে বাঁধে। পাথর জলে পড়ে যায়। মাটি ধসে যাওয়ায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, অতিবর্ষণে জল বেড়েছে অজয় নদে। বাঁধ ভাঙলে তাঁরা যাবেন কোথায়! বিল্লেশ্বর পঞ্চায়েতের প্রধান খান আশরাফুল আলম বলেন, আমরা সেচদপ্তরকে জানিয়েছি। আপাতত পলিব্যাগ দেওয়া হয়েছে। যে ঠিকাদার কাজ করেছেন তাঁকেও জানানো হয়েছে বিষয়টি। 

Advertisement

কেতুগ্রাম ১ ও ২ ব্লকে অজয়ের মোট ১৮ কিলোমিটারের বাঁধ রয়েছে। এই বাঁধ আগে এক্স জমিনদারি বাঁধ ছিল। তাই তার রক্ষণাবেক্ষণ করত জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতি। কিন্তু ২০১৭ সালে এই বাঁধ সেচদপ্তরকে হস্তান্তরিত করা হয়। তারপর থেকে বাঁধে বেশ কয়েকধাপে কাজ হয়। প্রথম ধাপে ২০১৮ সালে সাড়ে ছ’কোটি টাকা খরচ করে সংস্কারের কাজ হয়। সেই কাজ ২০১৯ সালে শেষ হয়। এরপর ২০২১ সালের বর্ষায় অজয়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় কেতুগ্রামে পাঁচ জায়গায় বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। যার জন্য বিল্লেশ্বর এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। চরখি থেকে বিল্লেশ্বর এলাকায়  বাঁধ ভেঙে যায়। তাছাড়া বিল্লেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে দু’জায়গায় বড়সড় এলাকা জুড়ে বাঁধ ভাঙে। পরে ওই ভাঙা অংশে কাজ করেছে সেচ দপ্তর। 
কেতুগ্রামে বিল্লেশ্বর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারের জন্য তিন কোটি ৩০ লক্ষ টাকা খরচ করে কাজ করেছিল সেচদপ্তর। ওই এলাকায় অজয় বাঁক নিয়েছে। তাই ফি-বছর অজয়ের জল বাড়লেই বাঁধের গায়ে ধাক্কা খেয়ে দুর্বল হয় বাঁধ।
সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিল্লেশ্বরের চরখি এলাকার বাসিন্দা খোকন পাল বলেন, কয়েক মাস আগে এখানে বাঁধ মেরামতির কাজ হয়। যখন পাথর দিয়ে বাঁধানো হচ্ছিল তখন মাটি নরম ছিল। আমরা বলেছিলাম পাথর পরে দিতে। কিন্তু ঠিকাদার কথা শোনেননি। দায়সারা ভাবে কাজ হয়েছিল। তারপরেই নদীতে জল বেড়ে পাথরের লাইন ধসে গিয়েছে। এখন বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় কাঁটা হয়ে রয়েছি।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ