নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: মুখ্যমন্ত্রীর এইমস ঘোষণায় জেলা জুড়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাসের হাওয়া বইছে। সেই সঙ্গে রায়গঞ্জের দীপনগর মৌজা সহ সংলগ্ন এলাকার জমির চাহিদা এক লাফে তুঙ্গে উঠে গিয়েছে! এই এলাকায় এইমস গড়তে কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাবিত ১৮০ একর জমির সংলগ্ন চত্বর ও আশপাশে জমির খোঁজে দূর-দূরান্ত থেকে গ্রামবাসীদের কাছে ফোন আসছে। জমির দাম বাবদ আসছে কোটি টাকার অফার। এলাকায় জমি দালালদের ঘোরাঘুরি বেড়ে গিয়েছে। এই আবহের মধ্যেই, শুক্রবার রাত থেকে দীপনগর মৌজায় জমি কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা জারির একটি ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি সমাজমাধ্যমে ব্যাপক ভাবে ভাইরাল হয়। মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ওই এলাকায় জমি কেনাবেচা সহ হস্তান্তর বন্ধের কথা লেখা ছিলো। এতে জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়।
ঘটনা নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। জানা যায়, সরকারি কোনো নোটিশ ইস্যুই হয়নি। যেটি ভাইরাল হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভুয়ো! প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই ভুয়ো বিজ্ঞপ্তির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। সরকারি ভাবে ওই জমি কেনাবেচা বা হস্তান্তর প্রসঙ্গে কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি এখনও পর্যন্ত জারি করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হর্তাকর্তারা রায়গঞ্জ পুলিশের দ্বারস্থ হবেন বলে জানা গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, জমি দালালরাই কৌশলে প্রস্তাবিত এইমসের জমি ও আশপাশের জমি হাতাতে ওই ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে দিয়েছিলো। যদিও পুলিশি তদন্তের পর বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাবে খোলসা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ২৯ অক্টোবর জেলায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এইমস ঘোষণার পর থেকে এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছে। সকাল-সন্ধ্যায় বাইক, গাড়িতে চেপে রায়গঞ্জ, করণদিঘি, ইটাহার থেকে লোকজন আসছেন। প্রস্তাবিত জমির চার দিকে ঘুরছেন। দীপনগরের বাসিন্দা উত্তম দাস বলেন, রায়গঞ্জের দীপনগর মৌজায় যেখানে এইমসের প্রস্তাবিত জমি সেখানে আমার বাবার নামে তিন বিঘা চাষের জমি আছে। পাশেই আমাদের হোমিওপ্যাথি দোকান আছে। বর্তমানে পানিশালা টোলট্যাক্স সংলগ্ন দীপনগর ও আশপাশের এলাকায় জমির চাহিদা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গিয়েছে, এইমস ঘোষণার আগে দীপনগর মৌজায় জাতীয় সড়কের ধারে ছোটো রাস্তার পাশে এক কাঠা জমি আনুমানিক ৫-৬ লক্ষ টাকায় বিক্রি হতো। ছোট রাস্তা থেকে ভিতরের দিকে এক বিঘা জমির দাম আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকা ছিল। বর্তমানে দীপনগর মৌজায় সেই সব জমির দাম বাড়ছে। এখন পুরনো দামে জমি বিক্রি করতে অনেকেই রাজি হচ্ছেন।



