Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিশুদের দেওয়া হবে এআই পাঠ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরু

এবার প্রাথমিকের শ্রেণিকক্ষেও ঢুকে পড়ল  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।

শিশুদের দেওয়া হবে এআই পাঠ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরু
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: এবার প্রাথমিকের শ্রেণিকক্ষেও ঢুকে পড়ল  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। শিক্ষক-শিক্ষিকারা কীভাবে এআইয়ের মাধ্যমে খুদে পড়ুয়াদের পড়াবেন, তারই প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রথম শুরু হল মুর্শিদাবাদে। সেই প্রশিক্ষণে জোর দেওয়া হয়েছে এআইয়ের উপর ভিত্তি করে শিশুদের জ্ঞানের বিকাশ ঘটানো। এরজন্য একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে চ্যাট জিপিটি, মাইক্রোসফট কো-পাইলট, ম্যাজিক স্কুল, কিউরিপড, কাহুট, ক্যুইজিজ, গুগল লেন্স ও গুগল ট্রান্সলেট সহ একাধিক টুলস ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এই সব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত অ্যাপ্লিকেশন ও টুলস আগামী প্রজন্মকে বাড়তি জ্ঞান প্রদান করবে বলেই আশাবাদী শিক্ষকমহল। 

Advertisement

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০’র অধীনেই এআই নির্ভর এই নয়া পাঠক্রম তৈরির ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২৬-২০২৭) থেকেই তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের শেখানো হবে এআইয়ের প্রাথমিক বিষয়গুলি। সিবিএসই ছাড়াও কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়গুলির পাঠক্রম নতুনভাবে সাজানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। পিছিয়ে নেই এই রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিও। প্রাথমিকের পড়ুয়াদের পাঠক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ শুরু করার আগে শিক্ষক, শিক্ষিকারা ধাতস্থ হতে চাইছেন। তাই প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে। কীভাবে পড়ুয়াদের পাঠদানের লেসন তৈরি করবেন, প্রাথমিকের শিক্ষক, শিক্ষিকাদের নিয়ে সেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হল। প্রতি সার্কেল থেকে দু’জন করে শিক্ষক-শিক্ষিকা এই ট্রেনিং নিয়েছেন। এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য শুধুমাত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত শৈলী পড়ুয়াদের মধ্যে সঞ্চার করা নয়, এআই সম্পর্কে নীতিগত ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলাও উদ্দেশ্য রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এআই ছড়ি ঘোরাবে। সেটা বুঝেই প্রযুক্তির এই দানকে এবার সরাসরি শিশুপাঠ্যের সঙ্গে জুড়তে চলেছে শিক্ষাদপ্তর। এআই কী ভাবে মানুষের কল্যাণের কাজে ব্যবহার করা যায়, তার ধারণা ছোটবেলা থেকেই পড়ুয়াদের মনে গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা চলবে। এআইকে যেন ভুল পথে পরিচালিত করা না হয়, সেই জ্ঞানও দেওয়া হবে পড়ুয়াদের। গোটা বিশ্বের সঙ্গে বাংলার ছেলেমেয়েরাও যাতে পাল্লা দিয়ে ছুটতে পারে, তার জন্যই প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠক্রম তৈরিতে কৃত্রিম মেধাকে জুড়ে দিতে চাইছে রাজ্য। মুর্শিদাবাদ জেলা প্রাথমিক শিক্ষাদপ্তরের উদ্যোগে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এই ট্রেনিং হয়। 
মুর্শিদাবাদ জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই) অপর্ণা মণ্ডল বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষিকারা কীভাবে তাঁদের দৈনন্দিন শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রমে এআইকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, সেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এআই ব্যবহার করে পাঠ পরিকল্পনা, কুইজ, গল্প এবং ওয়ার্কশিট তৈরি করা শেখানো হয়। এর ফলে প্রাথমিকের পড়ুয়াদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। প্রতি সার্কেল থেকে দু’জন করে শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সার্কেল লেভেলে অন্যান্য স্কুলে এঁরাই প্রশিক্ষণ দেবেন। তবে যে সমস্ত স্কুলে কম্পিউটার জানা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপারে আগ্রহী শিক্ষক রয়েছেন, তাঁদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এই প্রশিক্ষণে। মাস তিনেক পর এআইয়ের উপর আরও একটি প্রশিক্ষণ করানো হবে।’ 
জানা গিয়েছে, প্রাথমিকের পড়ুয়াদের জন্য বেশ কিছু টুলস ব্যবহার করে ভাগে ভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা হবে। যেমন চ্যাট জিপিটি ও কো-পাইলটের মাধ্যমে লেসন তৈরি করা হবে। ম্যাজিক স্কুল ও কিউরিপডের মাধ্যমে সেই লেসন প্ল্যানিং করা হবে। কাহুট এবং কুইজিজের মাধ্যমে প্রশ্নোত্তর ও সাধারণ জ্ঞান বাড়ানোর কাজ করা হবে। ভিজ্যুয়াল এবং ভাষাজ্ঞান বাড়ানোর জন্য গুগল লেন্স ও ট্রান্সলেট ব্যবহার করা হবে শ্রেণিকক্ষে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ