নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চাষিদের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে সার্টিফায়েডর ধানবীজ দেবে কৃষিদপ্তর। ১৯ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের খামার থেকে এই বীজ দেওয়া হবে। কৃষিদপ্তর জনিয়েছে, একজন চাষি সর্বাধিক ৩০কেজি পর্যন্ত ধানবীজ পাবেন। আগে এলে আগে পাবেন, এই ভিত্তিতে বীজ দেওয়া দেওয়া হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, ৪০ টাকা কেজি দরে চাষিরা উন্নতমানের ধানবীজ পাবেন। সামনের বর্ষার মরশুমের জন্য আর কিছুদিন পর থেকেই চাষিরা বীজতলা তৈরি কাজ শুরু করবেন। তার আগেই তাঁদের বীজ দেওয়া হবে। বাইরে বীজ কিনে চাষিরা অনেক সময় প্রতারিত হন। ভালো গুণমানের বীজ দেওয়া হয় না। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েন চাষিরা। কিন্তু, সরকারি খামার থেকে বীজ কিনলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
কৃষিদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রতি বছরই চাষিদের বর্ষার আগে ধানবীজ দেওয়া হয়। এছাড়া শীতের মরশুমে ডালশস্যর বীজ দেওয়া হয়। চাষিদের একাংশের অভিযোগ, কখন বীজ দেওয়া হয় তা অনক সময় চাষিরা জানতে পারেন না। নির্দিষ্ট কিছু চাষি সুবিধা পেয়ে থাকেন। এক চাষি বলেন, ধানবীজ দেওয়ার আগে প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকায় কৃষিদপ্তরের প্রচার করা উচিত। তা না হলে সরকারের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। নির্দিষ্ট কয়েকজন চাষি প্রতি বছর এধরনের সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু, অধিকাংশ চাষি সরকারি খামার থেকে ধান কিনতে পারেন না। আর এক চাষি বলেন, সরকারি বীজের গ্রহণ যোগ্যতা অনেক বেশি। তা নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে দেওয়া হয়। চাষিদের স্বার্থের কথা ভেবে তা প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকায় দেওয়া উচিত। চাষিরা বলেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সমস্ত ধরনের বীজ নিয়ে প্রতারণা করার চেষ্টা চালায়। বিশেষ করে আলুবীজ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। এধরনের আসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। চাষ করার পর ফলন না হলে চাষিদের কপাল চাপড়ানো ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। বীজের পাশাপাশি সার নিয়েও কৃষিদপ্তরের প্রথম থেকেই নজরদারি চালানোর দাবি কৃষকরা করেছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ বলেন, বীজ দেওয়ার আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। চাষিরা জানতে পারেন না, এই অভিযোগ ঠিক নয়। যাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কৃষি খামারে যাবেন, তাঁরা প্রত্যেকেই বীজ পাবেন।