নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ভালো ফলনের লক্ষ্যে এবার স্বর্ণমাস ও বিধান সুরুচি ধানের চাষে জোর দিচ্ছে হুগলি কৃষিদপ্তর। সেইজন্য জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা মিশন প্রকল্পের অধীনে ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে চাষিদের দু’টি ধানের বীজ বিক্রি করবে জেলা কৃষিদপ্তর। ইতিমধ্যে আরামবাগ মহকুমার চারটি ব্লকে চাষিদের ধানের বীজ বিক্রি করতে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী মরশুমেই সংশ্লিষ্ট দু’টি প্রজাতির ধানের বীজ ছড়িয়ে চাষ শুরু হবে। আরামবাগ, গোঘাট-২ ও খানাকুল-১ এবং খানাকুল-২ ব্লকে এই বীজের চাষ শুরু হতে চলেছে। হুগলির সহ কৃষি অধিকর্তা(বীজ সংশিতকরণ) নবারুণ চক্রবর্তী বলেন, স্বর্ণ মাস ও বিধান সুরুচি দু’টি ধানের বীজের চাষ বাড়াতে আমরা জোর দিয়েছি। ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। এরকম নতুন প্রজাতির ধানের চাষে সুফল আসবে বলে আমরা আশাবাদী।
এই ব্যাপারে কৃষিদপ্তর জানিয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সি ধানের বীজে ফলন তুলনামূলক কমছে। তার সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে। তাই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে ১০ বছরের মধ্যে বয়সি ধানের বীজ চাষে জোর দেওয়া হচ্ছে। এই কর্মসূচিতে চাষিদের ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে ধানের বীজ সরবরাহ করা হবে। তার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্লকের কৃষিদপ্তরের তরফে প্রাথমিকভাবে আবেদনের ভিত্তিতে হুগলি জেলার বিভিন্ন কৃষি খামারে তৈরি করা বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। শীঘ্রই তা চাষিদের বিলি করে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে চাষিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ভর্তুকির টাকাও পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কেজি প্রতি স্বর্ণ মাসের দাম ৩০ টাকা। চাষিরা ১৫ টাকা ভর্তুকি পাবেন। এছাড়া বিধান সুরুচির দাম ৪০ টাকা। তারজন্যও ২০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে। এক হেক্টরের জন্য চাষিদের সর্বাধিক ৫০ কেজি করে সংশ্লিষ্ট ধানের বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রকল্প রূপায়ণে কেন্দ্র ৬০ শতাংশ ও রাজ্য ৪০ শতাংশ অর্থ ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ করেছে।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণত স্বর্ণ মাসুরি ধানের চাষ ব্যাপক হারে করে থাকেন চাষিরা। কিন্তু বিগত বছর ধরেই স্বর্ণ মাসুরিতে নানা রোগের আক্রমণ দেখতে পাচ্ছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। ফলে নতুন প্রজাতির এই ধান চাষে সুফল পেতে পারেন চাষিরা। আরামবাগ মহকুমায় খারিফের পাশাপাশি বোরো মরশুমেও ধানের চাষ হয়। তাই দু’টি মরশুমেই ১০ বছরের মধ্যে বয়সি নতুন প্রজাতির চাষ বাড়াতে কয়েকশো চাষিকে বীজ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ধাপে ধাপে চাষের এলাকা বাড়বে। এবার প্রথম পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্লকগুলিতে চাষের প্রকৃতির দিকে নজর রাখবে কৃষিদপ্তর। যেকোনও ধরনের পরামর্শও দেওয়া হবে চাষিদের।