Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৃষক-পঞ্চায়েত সমিতিকে অন্ধকারে রেখে ৮২০ টন আলু ক্রয় কৃষিদপ্তরের

স্থানীয় কৃষক, পঞ্চায়েত সমিতিকে অন্ধকারে রেখেই জলপাইগুড়ি জেলায় ৮২০ টনের মতো আলু কিনে ফেলেছে কৃষি বিপণন দপ্তর

কৃষক-পঞ্চায়েত সমিতিকে অন্ধকারে রেখে ৮২০ টন আলু ক্রয় কৃষিদপ্তরের
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: স্থানীয় কৃষক, পঞ্চায়েত সমিতিকে অন্ধকারে রেখেই জলপাইগুড়ি জেলায় ৮২০ টনের মতো আলু কিনে ফেলেছে কৃষি বিপণন দপ্তর। সরকারিভাবে এই আলু কেনা নিয়ে রীতিমতো স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলেছেন কৃষক সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সরকারিভাবে আলু কেনা হলেও নিয়মমতো কেন আগাম জানানো হল না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এই পরিস্থিতিতে বিতর্ক মেটাতে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছেন ধূপগুড়ির বিডিও সঞ্জয় প্রধান। তিনি বলেন, সকলকে জানানো হয়েছে। এখনও আলু কেনা শেষ হয়নি। আমরা সকলকে নিয়ে বৈঠকে বসব।

Advertisement

এখন আলুর বাজারমূল্য এক গাড়ি (১০ কুইন্টাল) ৭৫ হাজার থেকে ৮০হাজার টাকা। ১৫ দিন আগে এই আলুর মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু, ৯০ হাজার টাকা গাড়ি দরে ইতিমধ্যেই সুফল বাংলার জন্য ৬৭০ মেট্রিক টন এবং হিমঘরগুলি সরকারি মূল্যে ১৫০ মেট্রিক টনের মতো আলু কিনেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ আলুই কেনা হয়েছে ধূপগুড়ি ব্লক থেকে। কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে খবর, জলপাইগুড়িতে ১১টি হিমঘর বাছাই করা হয়েছে। সেখানে সরকারি মূল্যে আলু কিনে সংরক্ষণ করা হবে। এই ১১টি হিমঘরের ৩টি হিমঘর কর্তৃপক্ষ ব্যাঙ্কের সঙ্গে কথা বলে আলু কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। 
অভিযোগ উঠছে, সরকারিভাবে আলু নেওয়া হলেও তা সুনির্দিষ্টভাবে কৃষকদের জানানো হয়নি। যার জেরে সরকারি আলু কেনাতেও স্বজনপোষণ এবং কিছু ব্যবসায়ী প্রাধান্য পেয়েছে। সেই জায়গায় বঞ্চিত থেকেছে সাধারণ কৃষক। এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন ধূপগুড়ির পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি দীপু রায়। তিনি বলেন, সরকারিভাবে আলু কেনা হল, অথচ আমরা কেউই জানতে পারলাম না। এমনকি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পঞ্চায়েত সহ প্রধানদের জানানোর প্রয়োজন মনে করা হল না। এর ফলে সাধারণ কৃষকরা সরকারিভাবে আলু বিক্রি থেকে বঞ্চিত থেকে গেলেন। বিষয়টি আমি ধূপগুড়ির বিধায়ককে জানালে তিনি বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছেন। 
প্রধানদের জানানো হয়নি বলে মন্তব্য ধূপগুড়ির ঝাড় আলতাগ্রাম-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সোনাবালা রায়েরও। তিনি বলেন, আমাদের জানালে আমরা কৃষকদের মধ্যে প্রচার করতে পারতাম। কিন্তু, আলুর বন্ড বিতরণের জন্য জানানো হলেও সরকারিভাবে আলু বিক্রির কথা জানানো হয়নি। ধূপগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রামীণ ব্লক সভাপতি মলয় রায় বলেন, সরকারিভাবে আলু কেনা হল, কিন্ত প্রচারের অভাব ছিল। জলপাইগুড়ি জেলার কৃষি বিপণন আধিকারিক দেবাঞ্জন পালিত বলেন, প্রায় ৮২০ মেট্রিক টনের মতো সরকারিভাবে আলু কেনা হয়েছে। এর মধ্যে সুফল বাংলার জন্য ৬৭০ মেট্রিক টনের মতো আলু কেনা হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ