Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘কিং’ প্রজাতির আনারসের অভাবী বিক্রি রুখতে এবার উদ্যোগী কৃষি বিপণন দপ্তর

উপযুক্ত দাম নেই। প্রতি পিস ‘কিং’ প্রজাতির আনারস উৎপাদনে ২০ টাকা করে খরচ হলেও বিক্রি হচ্ছে ৮ টাকা কেজিতে! আনারসের এমন অভাবী বিক্রি নিয়ে রীতিমতো বেকায়দায় বিধাননগরের চাষিরা।

‘কিং’ প্রজাতির আনারসের অভাবী বিক্রি রুখতে এবার উদ্যোগী কৃষি বিপণন দপ্তর
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:১১
Prefer us on Google

সুব্রত ধর , শিলিগুড়ি: উপযুক্ত দাম নেই। প্রতি পিস ‘কিং’ প্রজাতির আনারস উৎপাদনে ২০ টাকা করে খরচ হলেও বিক্রি হচ্ছে ৮ টাকা কেজিতে! আনারসের এমন অভাবী বিক্রি নিয়ে রীতিমতো বেকায়দায় বিধাননগরের চাষিরা। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে কৃষি বিপণন দপ্তর। ইতিমধ্যে তারা বিধাননগর থেকে প্রায় ৬৬০ কেজি ‘কিং ভ্যারাইটির’ আনারস সহায়কমূল্যে খরিদ করেছে। তা বিক্রি হয়েছে কলকাতার সুফল বাংলার স্টলে। 

Advertisement

শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগর আনারস ভূমি হিসেবেই পরিচিত। বছরভর এখানে কিং প্রজাতির আনারস চাষ হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অক্টোবর মাস থেকে একটি প্রজাতি উঠছে। নভেম্বর মাস শেষ হতে চললেও সেই আনারসের উপযুক্ত দাম মিলছে না। যারফলে কিছু আনারস জমিতেই নষ্ট হচ্ছে। আবার কিছু জলের দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বিধাননগরের চাষিরা বলেন, কিং প্রজাতির একটি আনারস উৎপাদন করতে কম করে খরচ প্রায় ২০ টাকা। এখন সেটির দাম ৮ থেকে ১০ টাকা কেজি। এতে আনারস চাষের খরচই উঠছে না। এই লোকসান রুখতে সরকারি সহায়তার আর্জি জেলা প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে। 
কৃষকদের ওই সমস্যার কথা শুনেই আসরে নেমেছে কৃষি বিপণন দপ্তর। তারা বিধাননগরের কৃষকদের কাছ থেকে সহায়কমূল্যে আনারস ক্রয় করেছে। কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে বিধাননগর থেকে প্রায় ৬৬০ কেজি আনারস কেনা হয়েছে। তাতে ছিল প্রায় ৩০০ পিস আনারস। সেগুলি কেনা হয়েছে প্রায় ১৫ টাকা কেজি দরে। তা প্যাকিং করে বিধাননগর থেকে শিলিগুড়ি জংশন হয়ে শিয়ালদহে পাঠাতে খরচ হয়েছে ৩০ টাকা ২৩ পয়সা। 
শিলিগুড়ির দৈনিক নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির সচিব অনুপম মৈত্র বলেন, চাষিদের আর্জি মেনেই অভাবী বিক্রি রুখতে ৬৬০ কেজি কিং প্রজাতির আনারস সহায়কমূল্যে কেনা হয়েছে। তাতে বাজার থেকে দ্বিগুণ বেশি দাম পেয়েছেন চাষিরা। এতে তাঁরা খুশি। সেই আনারস সুফল বাংলার স্টলের মাধ্যমে কলকাতার বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। 
আনারসের অভাবী বিক্রি রুখতে বিধাননগরে ফল প্রক্রিয়াকরণ ইন্ডাস্ট্রি চালু করার দাবি উঠেছে। শিলিগুড়ি মহকুমায় আনারস চাষের জমির পারিমাণ প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর। যারমধ্যে ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর ও ঘোষপুকুর এলাকায় জমির পরিমাণ সর্বাধিক। এরবাইরে খড়িবাড়িতেও আনারস চাষের কিছু জমি রয়েছে। এরসঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরক্ষোভাবে কয়েক হাজার চাষি জড়িত। স্থানীয় একটি ফার্মার্স প্রোডিউসার্স সংস্থার বোর্ড মেম্বার প্রদীপকুমার সিংহ বলেন, কৃষি বিপণন দপ্তর সহায়কমূল্যে আনারস কেনায় কিছু চাষি উপকৃত হয়েছেন। এই সমস্যা স্থায়ীভাবে মেটানো প্রয়োজন। এজন্য এখানে বড় সংস্থার জ্যাম, জেলি, আচারের ইউনিট গড়তে হবে। তবে আর কিছুদিনের মধ্যে বিয়ের মরশুম শুরু হবে। তাতে আনারসের চাহিদা বাড়বে। দামও সামান্য বাড়বে বলেই আশা করছি। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ