Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অগ্রদ্বীপের মেলা অঘটন, গঙ্গায় নিখোঁজ ১, ষাঁড়ের আক্রমণে গুরুতর জখম আরও এক

কাটোয়ার অগ্রদ্বীপে গোপীনাথ মেলায় লক্ষ মানুষের ঢল নেমেছে। ভিড় সামলাতে মোতায়েন রয়েছে ১২০০ পুলিস

অগ্রদ্বীপের মেলা অঘটন, গঙ্গায় নিখোঁজ ১, ষাঁড়ের আক্রমণে গুরুতর জখম আরও এক
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ার অগ্রদ্বীপে গোপীনাথ মেলায় লক্ষ মানুষের ঢল নেমেছে। ভিড় সামলাতে মোতায়েন রয়েছে ১২০০ পুলিস। তবুও ঘটল অঘটন। বুধবার মেলায় এসে ভাগীরথীতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেলেন এক পুণ্যার্থী। অন্যদিকে ভিড়ে ষাঁড়ের দাপাদাপিতে রক্তাক্ত হলেন আর এক মহিলা পুণ্যার্থী। ওই মহিলাকে শিঙে করে তুলে আছাড় মারে খেপা ষাঁড়টি। তিনি এখন কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। 

Advertisement

ভাগীরথীতে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ব্যক্তির নাম খোকন দেবনাথ (৬০)। তাঁর বাড়ি নবদ্বীপ থানার মাজদিয়া স্কুল মাঠে। গত মঙ্গলবার তিনি ও তাঁর ছেলে মিলে অগ্রদ্বীপের গোপীনাথের মেলায় এসেছিলেন। এদিন সকালে সাহেবনগর ঘাটে তিনি স্নান করতে নেমে তলিয়ে যান। তাঁর ছেলে রাম দেবনাথ বলেন, আমরা প্রতিবছরের মতো গোপীনাথের মেলায় গামছা বিক্রি করতে এসেছিলাম। বাবা স্নান করতে নেমেছিলেন। আমি পাড়ে অপেক্ষা করছিলাম। দীর্ঘক্ষণ পরেও বাবা জল থেকে না ওঠায় পুলিসকে খবর দিই। এরপর বিপর্যয় মোকাবিলার বাহিনী এসে তল্লাশি চালায়। স্পিড বোট নামানো হয়। কিন্তু ওই ব্যক্তির খোজ মেলেনি। 
অন্যদিকে পুজোর দিন রাতে রাধারানি হালদার (৪৭) নামে এক পুণ্যার্থীকে একটি ষাঁড়ে তাড়া করে। মহিলা মাটিতে পড়ে গেলে তাঁর পেটে শিং দিয়ে তুলে আছাড় মারে। রক্তাক্ত অবস্থায় মহিলাকে নিয়ে ভাগীরথীর ঘাট পেরিয়ে হাসপাতালে আনতে কালঘাম ছুটে যায় তাঁর সঙ্গীসাথীদের। মহিলার জা স্বপ্না হালদার বলেন, এত ভিড় হলেও আপদকালীন ব্যবস্থা ঠিক ছিল না। ভিড় ঠেলে রক্তাক্ত অবস্থায় আমরা রোগীকে নিয়ে ফেরিঘাট পেরিয়ে তবে অ্যাম্বুলেন্স পেয়েছি। 
এবার গোপীনাথ মেলা দেখতে কাতারে কাতারে মানুষ এসেছিল। ৮টি নৌকো ও দু’টি ভেসেলের জন্য ১২টি অস্থায়ী ফেরিঘাট করা হয়েছিল। আর ৫টি অস্থায়ী স্নানের ঘাট করা হয়েছিল। কারণ গোপীনাথ মেলায় আসা পুণ্যার্থীরা পুণ্যস্নান সারেন। লক্ষাধিক মানুষের জন্য  ১২৬০ পুলিস কর্মী মোতায়েন ছিল। তারমধ্যে এসআই ও এএসআই পদমর্যাদার অফিসার ছিলেন ১৭০ জন। ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসার ছিলেন ১৬ জন। আর ৩২ জন ইনসপেক্টর ছিলেন। এছাড়াও বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রচুর প্রশিক্ষিত ডুবুরি, কর্মী মোতায়েন ছিল। তারপরেও অঘটন এড়ানো গেল না৷ এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। 
এদিন অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েতের প্রধান অর্চনা বাগ বলেন, ওই ষাঁড়টি কোথা থেকে মেলার মধ্যে ঢুকে পড়েছিল জানি না। আমরা মহিলাদের জন্য আলাদা শৌচালয়, পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করেছিলাম। মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে অসংখ্য সিসি ক্যামেরা ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল জানি না। এদিকে, মেলার কাছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এদিন একটি চন্দ্রবোড়া সাপ বের হতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মানুষজন। পরে বনদপ্তর সেটিকে উদ্ধার করে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ