নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: এগরায় নাবালিকাকে অপহরণের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের কাকাকে তামিলনাড়ুর সালেম থেকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি। ধৃতের নাম শেখ আবদুল সাত্তার। গতবছর ১২আগস্ট এগরা থানার কসবাগোলা গ্রাম থেকে ওই নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছিল পড়শি যুবকের বিরুদ্ধে। ১৪আগস্ট এগরা থানায় এফআইআর হলেও পুলিশ নাবালিকাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়। মেয়েটির পরিবার হাইকোর্টে গেলে ২৭ডিসেম্বর উচ্চ আদালত সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নাবালিকাকে উদ্ধারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। শনিবার তদন্তকারী আধিকারিক নলিনী সামন্তের নেতৃত্বে সিআইডির টিম সাত্তারকে গ্রেপ্তার করে।
ধৃতকে কাঁথি এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের সিআইডি হেপাজত মঞ্জুর করেছেন। এবার সাত্তারের ভাইপো এবং অপহৃত নাবালিকার খোঁজে আদাজল খেয়ে নেমেছেন সিআইডি আধিকারিকরা।
কসবাগোলা গ্রামেই ওই যুবকের বাড়ি। সে কর্মসূত্রে তামিলনাড়ুতে থাকত। অভিযুক্ত যুবক নাবালিকাকে নিয়ে সালেমে রয়েছে-এমন অনুমান করেই সিআইডির একটি টিম সেখানে হানা দিয়েছিল। কিন্তু সালেমে অভিযুক্তের কাকাকে পেলেও ওই যুবকের খোঁজ মেলেনি। নাবালিকারও হদিস পাওয়া যায়নি। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত যুবক নাবালিকাকে নিয়ে ওড়িশায় একটি গোপন জায়গায় রয়েছে। হাইকোর্ট নাবালিকা উদ্ধারে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগ বেশ চাপে আছে। মেয়েটিকে উদ্ধারে তারা জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
কসবাগোলার ওই ছাত্রী নবম শ্রেণিতে পড়ত। সালেমে কর্মরত ওই গ্রামের যুবকের সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। গতবছর ১২আগস্ট ওই যুবক এবং নাবালিকা বেপাত্তা হয়ে যায়। মেয়েটির পরিবার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর ১৪তারিখ এগরা থানায় অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু একমাসেও পুলিশ মেয়েটির খোঁজ না পাওয়ায় ওই পরিবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। উচ্চ আদালত মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেয়। অভিযুক্ত যুবক ও নাবালিকার মোবাইল সুইচড অফ থাকায় তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করতে সিআইডিকে অন্ধকারে হাতড়াতে হয়। শেষমেশ সিআইডির একটি টিম তামিলনাড়ুতে ওই যুবকের কর্মস্থলে হানা দেয়। কিন্তু সেখানেও অভিযুক্ত বা নাবালিকার খোঁজ মেলেনি।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নাবালিকা পালানোর হার অন্য জেলার তুলনায় বেশি। জেলার মধ্যে ময়না, নন্দকুমার, তমলুক, ভূপতিনগর, এগরা প্রভৃতি থানা এলাকায় এধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। অপহরণের অভিযোগ দায়ের হলে অনেকসময় নাবালিকাকে উদ্ধার করতে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের সদস্যদের আটক বা গ্রেপ্তার করে চাপ বাড়ানো হয়। ১২ফেব্রুয়ারি ময়না থানার মগরা গ্রামে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী পড়শি যুবকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনায় প্রেমিকের জেঠুকে আটক করে পুলিশ। সিআইডি সূত্রে খবর, ধৃত শেখ আবদুল সাত্তারকে নিয়ে তার ভাইপো ও নাবালিকার খোঁজ চালানো হবে। আদালত ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নাবালিকাকে উদ্ধারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তাই ২৮তারিখের মধ্যেই তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।