নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পালাবদলের পর তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড ভেঙে গিয়েছে। পুরসভার পরিচালনায় প্রশাসক বসেছেন। তারপরও পানিহাটিতে বেআইনি নির্মাণে লাগাম নেই। একের পর এক বেআইনি নির্মাণের ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছিল। তাতেই নড়েচড়ে বসল রাজ্য নগরোন্নয়ন দপ্তর। খোদ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পুরসভা থেকে রিপোর্ট চান। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই রিপোর্ট পেয়ে পুরসভাকে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উত্তর শহরতলিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ নতুন নয়। দমদম লোকসভা জুড়ে হাজার হাজার বেআইনি নির্মাণ মাথা তুলে রয়েছে। ওইসব বেআইনি নির্মাণকে বৈধতা দিতে পালাবদলের পরও শহরতলি জুড়ে কোটি কোটি টাকার কারবার শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ। দক্ষিণ দমদমের এক প্রোমোটার খোদ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে এনিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। পানিহাটির চিত্রও কমবেশি এক। বিপুল টাকার আবাসন রক্ষা করতে প্রোমোটাররা টাকা নিয়ে ঘুরছেন বলে সূত্রের দাবি। রাজ্যে পালাবদলের পরও কেন এমন বেআইনি কাজ চলছে, তা নিয়ে সর্বত্র প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বুধবার পানিহাটির এক বাসিন্দা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় শহরের দু’টি বেআইনি নির্মাণ নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। তাতে বলা হয়, পানিহাটি পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হলধর বসু রোডে তিনতলার অনুমোদনে পাঁচতলা নির্মাণ করা হচ্ছিল। একইভাবে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৪ নম্বর দেশবন্ধু নগরেও তিনতলার অনুমোদনে পাঁচতলা নির্মাণ করা হচ্ছিল। অভিযোগ জানালেও পুরসভা কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। সমাজমাধ্যমে বিষয়টি দেখে দ্রুত পদক্ষেপ করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি আজ সকালে পুরসভা থেকে রিপোর্ট চান।
সূত্রের খবর, পুরসভার রিপোর্টেও দুটি নির্মাণে অনুমোদিত নকশা ও বাস্তব নির্মাণের অসঙ্গতি সামনে এসেছে। সরকারের এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষ খুশি। তবে তাঁদের বক্তব্য, প্রভাবশালী সন্ময়বাবুর অভিযোগকে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তেমন শহরতলি জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা নির্মাণের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ হোক।
সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বেআইনি নির্মাণ নিয়ে আগের সরকারের আমলেও বহু অভিযোগ করলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। বর্তমান সরকার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ করেছে। তবে বেআইনি অংশ ভাঙা বা নির্মাণ বন্ধে পুরসভা কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার।