নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট ‘ক্যারিং এজেন্সি’কে সাসপেন্ড করল মালদহ জেলা প্রশাসন। এই ধরনের অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। কখনও চাল, ডালের ওজনে কারচুপি, আবার নির্দিষ্ট করে দেওয়া সত্ত্বেও কম দামের ডাল সরবরাহের অভিযোগ আসে। এই ধরনের অনিয়ম রুখতে এবার সরকারের নির্দিষ্ট করে দেওয়া ডালের স্যাম্পেল প্যাকেট পাঠানো হচ্ছে একেবারে সুপারভাইজার পর্যায়ে। ক্যারিং এজেন্সির কাছ থেকে ডাল নেওয়ার সময় স্যাম্পেল মিলিয়ে নিতে হবে। ডালের আবার এবং ওজনে পার্থক্য নজরে এলেই নেওয়া হবে কঠোর পদক্ষেপ। রবিবার একথা জানান মালদহের জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া। তিনি জানান,অনিয়মের জন্য গাজোল ব্লকের একটি ক্যারিং এজেন্সিকে বাতিল করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গাজোল ব্লকের ওই ক্যারিং এজেন্সির বিরুদ্ধে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, তারা ৫০ কেজির পরিবর্তে ৪৫ থেকে ৪৭ কেজি চালের বস্তা সরবরাহ করেছিল। এই অভিযোগ সামনে আসতেই তদন্তে নামে জেলা প্রশাসন। গরমিল খুঁজে পাওয়ায় এজেন্সির খাদ্য সামগ্রী সরবরাহের বরাত বাতিল করে সাসপেন্ড করা হয়। জেলাশাসক বলেন, ওই ক্যারিং এজেন্সির সামগ্রী অন্য একটি এজেন্সি সরবরাহ করছে। যে সমস্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি তেল, নুন, ডাল সরবরাহ করে থাকে, তাদেরও প্রশাসন সতর্ক করেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী প্রত্যেক অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে ছোট দানার মুসুর ডাল দিতে হবে। কিন্তু বেশকিছু সময় লক্ষ্য করা গিয়েছে, কিছু কিছু ক্যারিং এজেন্সি ছোট দানার মুসুর ডালের পরিবর্তে মাঝারি আকারের সরবরাহ করে থাকে। এই ধরনের অনিয়ম রুখতে প্রতি মাসে ডালের সাইজের অনুমোদন দিয়ে তার স্যম্পেল প্যাকেট তৈরি করছে জেলা প্রশাসন। যা মালদহ জেলার সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি সুপারভাইজার পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে। জেলায় সাধারণ ডিপিও আইসিডিএস, মহকুমায় ওসি আইসিডিএস, ব্লকে সিডিপিও এবং তার নীচে থাকেন সুপারভাইজাররা। যাদের অধীনে ৮ থেকে ১০ টা অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার থাকে।
মালদহ জেলায় প্রায় ছয় হাজার অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার রয়েছে। যেখান থেকে লক্ষাধিক বাচ্চা ও তাদের মায়েরা পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করে থাকেন। ভাত, ডাল বা খিচুড়ির পাশাপাশি এখানে বাচ্চাদের জন্য ছাতুর লাড্ডু পুষ্টিকর খাবার হিসেবেও দেওয়া হয়। বাচ্চা ও মায়েদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে বহু অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে ‘কিচেন গার্ডেন’ তৈরি করা হচ্ছে। যার জন্য সক্ষম প্রকল্পের মাধ্যমে সেন্টারগুলিকে অর্থ সাহায্য করছে সরকার। এই কিচেন গার্ডেনে বিভিন্ন ধরনের মরশুমি ফসল, শাক, সব্জি উৎপাদন করা হবে।