নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের প্রভাব পড়তে শুরু করল বাঙালির পুজো ভ্রমণে! আচমকা বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে পুজোর ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা বদল করছেন অনেকে। পর্যটকদের একটা বড়ো অংশ আগাম করে রাখা বুকিং বাতিল করছেন। পরিকল্পনা বদলে তাঁরা সমুদ্র কিংবা ডুয়ার্সের মতো অপেক্ষাকৃত নিরাপদ গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে হাওড়ার বিভিন্ন ভ্রমণ সংস্থার কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। একসঙ্গে বুকিং বাতিল ও পর্যটকদের নতুন গন্তব্যের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে তাদের।
কথায় বলে, বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে! পুজোর ছুটিতে পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে বেরিয়ে পড়ে বহু বাঙালি। সমতলের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি পাহাড়ের প্রতি বরাবরই আলাদা আকর্ষণ রয়েছে তাঁদের। এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম দেখা যায়নি প্রাথমিকভাবে। নেপাল ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন পর্যটন সংস্থায় বুকিংয়ের চাপ ছিল ভালোই। কিন্তু গত বুধবারের পর থেকে আমূল বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি। বেলুড়ের একটি ভ্রমণ সংস্থার মালিক কল্লোল পান বলছিলেন, ‘পুজোয় ৬৫ জনের একটি দল নিয়ে নেপাল যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। যাতায়াতের টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিপর্যয়ের ছবি দেখে সবাই আতঙ্কিত। তাই ট্রিপ বাতিল করে এখন তাঁদের আন্দামান কিংবা লাক্ষাদ্বীপে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা চলছে।’
সালকিয়ার একটি ভ্রমণ সংস্থার মালিক অভিজিৎ মণ্ডল জানান, পুজোর ছুটিতে দু’টি ব্যাচ নিয়ে নেপাল যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। ফ্লাইট ও ট্রেনের টিকিট কাটার পাশাপাশি হোটেলেও অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ পর্যটক পরিকল্পনা বাতিল করায় আপাতত সফরই বাতিল করতে হয়েছে। শুভ্রজ্যোতি দাস নামে হাওড়ার এক বাসিন্দা বলেন, ‘পাহাড় এখন স্বাভাবিক নয়। পরিবার নিয়ে গিয়ে বিপদে পড়লে কী হবে! তাই এবার নেপালের বদলে অন্য কোথাও যাব।’ সব মিলিয়ে পুজোর ছুটিতে নেপালের বদলে সমুদ্র কিংবা ডুয়ার্সের গন্তব্য খুঁজছেন বহু পর্যটক। এদিকে, শিলিগুড়ি বা ডুয়ার্সগামী ট্রেন ও বাসের টিকিট অমিল হওয়ায় বেগ পেতে হচ্ছে ভ্রমণ সংস্থাগুলিকেও।